বঙ্গোপসাগরে নতুন করে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপ ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত এই লঘুচাপ আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও ঘন হতে পারে। ইতিমধ্যে সেটি সুস্পষ্ট রূপ নিয়েছে এবং আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি একটি গভীর নিম্নচাপে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি একইভাবে অগ্রসর হলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই লঘুচাপ একটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিক বরাবর অগ্রসর হবে। যদিও সরাসরি বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে এর বড় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, তবুও দেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবর্তনের অনুভূতি থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, ২ থেকে ৩ অক্টোবরের মধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে। এ সময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে উপকূলীয় জেলাগুলোতে নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি জেলেদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের এই ধরনের পরিস্থিতি বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই দেখা যায়। তবে এ ধরনের লঘুচাপ দ্রুত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে তা দেশের আবহাওয়ায় স্বল্পমেয়াদী প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সমুদ্র উপকূলে বসবাসকারী মানুষদের এ সময় সচেতন থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে নৌকা বা ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার জন্যও সতর্কতা জারি করা হতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনগণকে সর্বশেষ তথ্য জানাবে। তাই আবহাওয়ার আপডেট জানতে গণমাধ্যম ও সরকারি ঘোষণার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার 


























