মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি, মিথ্যা অভিযোগে জড়ানোর চেষ্টা এবং সামাজিকভাবে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলে নান্দাইলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নান্দাইল মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তারা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকার সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের চাপের মধ্যে রাখা হচ্ছে। সামান্য ঘটনাকেও কেন্দ্র করে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সম্প্রতি রহিমা আক্তারের বাড়িতে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আল আমিন (৩০), আবু সিদ্দিক (৭০), মামুন মিয়া (৫০), আব্বাস আলি (৫০) ও জোসনা আক্তার (৫০)সহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে নান্দাইল মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, পূর্ব বিরোধের জেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ওই ঘটনায় জড়ানো হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করলেও অভিযোগের সত্যতা পায়নি। এরপরও নিরীহ মানুষকে হয়রানির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী আব্বাস আলি বলেন, “রহিমা আক্তারের সঙ্গে আমাদের জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। ২০০০ সাল থেকে এ বিষয়ে একাধিক মামলা চলছে। শুধু আমরা নই, তার পক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়া অনেক সাধারণ মানুষও বিভিন্ন সময়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন।”
হাসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। চুরির ঘটনার প্রকৃত তদন্ত না করে নিরীহ মানুষকে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
আবু বক্কর ছিদ্দিকের অভিযোগ, রহিমা আক্তার রুহি বিভিন্ন সময় চাকরি দেওয়ার কথা বলে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। কেউ এর প্রতিবাদ করলে তাকেও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মামুন মিয়া বলেন, রহিমা আক্তার রুহি তাকে ফোন করে ১০ লাখ টাকার মামলার ভয় দেখিয়েছেন। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, হয়রানি বন্ধ এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রহিমা আক্তার রুহির ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 



















