জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেছেন, বিএনপির অভ্যন্তরে লোকানো কিছু গুপ্ত উপদেষ্টা ছিল। যারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিরোধী দলের অনেক নেতাকে ইচ্ছে করে হারিয়ে দিয়েছে। যদি তা হতো আমরা ১১ দল ১৮০টির মত আসন পেতে যাচ্ছিলাম। ফলাফল ঘোষণা হচ্ছিল কিছুক্ষণ পর সকল মিডিয়াতে ফলাফল ঘোষণা বন্ধ করে দেয়া হলো। রহস্যজনকভাবে ফলাফল ম্যানুপুলেশন করে আমাদেরকে অর্থাৎ বিরোধী দলে ঠেলে দেয়া হলো। সরকার একজন উপদেষ্ঠাতো পরবর্তীকালে স্বীকার করেছেন।
শনিবার (২৭ জুন) বিকালে নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্য ময়মনসিংহ বিভাগ আয়োজিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই মহাসমাবেশের প্রধান দাবি গণভোটের গণরায়কে কার্যকর করতে হবে। দ্বিতীয় দাবি, আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রতিদিনের নিত্যদিনের জীবন প্রবাহের জন্য জনদুর্ভোগ, এই দুর্ভোগকে দূর করতে হবে। এখন ক্ষমতায় যারা আছেন বিএনপির উনারা তো সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদের একেবারে বিরোধী দলে কারা আছেন কি নেই দেখার দরকার নেই। উনারা বলে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন দিয়ে উনারা দেশ চালাতে চান। ঠিক আছে আপনারা নির্বাচিত হয়ে যেভাবেই হোক আপনারা এসে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চলবে। গণভোটে মানুষ সরাসরি হ্যা ভোটে রায় দিয়েছেন| রক্তাক্ত জুলাই সনদে ওয়াদা দিয়েছিলেন বলেই মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে জামায়াত, ১১ দলকেও ভোট দিয়েছে। আপনাদের এমপিরা জনগণের দেয়া ভোট নিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জুলাই সনদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, এজন্য জনগণ আপনাদের ভোট দেয়নি।
খেলাফতে মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আপনাদের মনে থাকবার কথা শেখ হাসিনা বলতো উন্নয়নের গণতন্ত্র অর্থাৎ দেশের মানুষের মতামতের প্রয়োজন নাই। দেশের ভোটাধিকারের প্রয়োজন নাই। তাই ২০১৪ সালের বিনা ভোটের সরকার, ২০১৮ সালের রাতের ভোটের সরকার, ২০২৪ সালে আমি আর ডামি মার্কা নির্বাচন করে জনগণের ভোটাধিকারকে ছিনতাই করে বাংলার অধিকারকে সে তার পায়ের নিচে পিষ্ট করেছিল।
বিএনপিকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলের, বিএনপি ঈদের চাঁদ উঠবে অপেক্ষা করেছিল। কবে চাঁদ উঠবে ঈদ আসবে এরপর আন্দোলন হবে। ১৫ বছর পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বের ব্যর্থতার ফলস হিসেবে এদেশে যুবকেরা প্রাণ দিয়েছে। এদেশের মানুষেরা জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে ২০১৩ সালে শাপলা চত্ত্বরে, রক্ত দিয়েছে আল্লাম সাঈদীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসির রায় দেয়াতে রক্ত দিয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি’র (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে দেখেছি, যিনি এখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। একটি নির্বাচনী সভায় অনুরোধ করে বলেছিলেন আপনারা সবাই গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিবেন। কিন্তু নির্বাচনের পরে সেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য যেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ হওয়ার কথা, সেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ তাঁরা নিলেন না। যে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন সেটা তিনি আর কোথাও কোন মুখ খুললেন না। এই জাতির সাথে এদেশের জনগণের সাথে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দিনে-দুপুরে প্রতারণা করে তাঁরা সরকার চালিয়ে যাচ্ছেন। তারপরও বাংলাদেশ যেহেতু একটা দীর্ঘসময় কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল ১১ দলীয় জোট সংসদে এক সাথে কাজ করার কথা বলেছে। সরকারকে সহযোগিতা করার কথাও বলেছে। কিন্তু আমরা দেখি এই সরকার শুধুমাত্র আমাদের জনগণের গণভোটের রায়ের সাথে যে প্রতারণা করেছে তা না, তাঁরা দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রেও বার বার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মুহাম্মদ মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলঅম পারওয়ার ও জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মূখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া| বক্তব্য রাখেন নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

স্টাফ রিপোর্টার 
























