২০২২ সালে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় মায়ের পেট ফেটে ভুমিষ্ট হওয়া আলোচিত শিশুর ফাতেমার দাদার কর্মসংস্থানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার সামগ্রী নিয়ে ফাতেমার বাড়ি যান ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান। এসময় তিনি ফাতেমার দাদার দোকানের পুজি হিসেবে দেয়া মালামাল তুলে দেন।
শনিবার দুপুরে উপজেলা রায়মনি গ্রামে নিজ বাড়িতে এই উপহার সামগ্রী তুলে দেন।
জানাযায়, ২০২২ সালে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে জাহাঙ্গীর আলম ৯ মাসের অন্তসত্যা স্ত্রীকে ডাক্তার দেখিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। এসময় স্বামী স্ত্রী ও ছয় বছরের কন্যা সন্তান তিনজনই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হলেও অলৌকিকভাবে মায়ের পেটে ভুমিষ্ট হন শিশু ফাতেমা। স্থানীয়রা ছুটে এসে দেখেন মায়ের পেট ফেটে বের হওয়া নবজাতকটি বেচে আছেন। দ্রুত তাকে হাপাতালে নিয়ে গেলে বেচে যান শিশু ফাতেমা। পরিবারের আর দুজন ছোট শিশু থাকায় ফাতেমা পাঠিয়ে দেয়া হয় ছোট মনি নিবাসে। ফাতেমার দাদা দাদী তার নিয়মিত দেখভাল সহ অন্য দুই শিশুকে লালন পালন করেন। এ ঘটনা তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসলে তিনি তৎকালীন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নাইমুল কবির লুইসের মাধ্যমে ফাতেমার খোজখবর নিয়ে প্রতিমাসে ঐ সংসারে বরণ পোষনের ব্যবস্থা করে আসছিলেন।
সম্প্রতি জাতীয় কবি জন্মজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রীর আগমনে ফাতেমার পরিবারের খোজ খবর নেন তিনি। সফরকালে ফাতেমা দাদা ও দুই শিশুর সাথে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় ফাতেমার দাদা তার ছোট মুদির দোকানে পুজির ব্যবস্থার দাবী জানালে তিনি জেলা প্রশাসক সার্বিক খোজ নিতে বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান পুজি হিসেবে দোকানের বিক্রয়যোগ্য মালামাল কিনে ফাতেমার দাদা বাবলু হাতে তুলে দেন। এসময় জেলা প্রশাসক নিহত তিনজনের কবর জিয়ারত ও ঘরে গিয়ে সবার খোজখবর নেন ও ঘর নির্মানের জন্যে টিন ও নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী,সহকারী কমিশনার ভুমি মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, ২০২২ সালে এই দুর্ঘটনা সারাদেশের মানুষকে কাদিয়েছিলো। অলৌকিকভাবে শিশু ফাতেমা বেচে যান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এ সহযোগিতার জন্যে এসেছি। ভবিষ্যতেও আমরা এই পরিবারের সার্বিক দায়িত্ব করে যাবো।
তৎকালীন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নাইমুল কবির লুইস বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমান ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারী আতিকুর রহমান রুমনের মাধ্যমে আমাকে খোজ নিতে বলেন। আমি সার্বিক খোজ নিয়ে জানালে ঐ মাস থেকে তিনি প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে এই পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীসহ অন্যান্য সামগ্রী পৌছে দিচ্ছি যা আজ অবধি অব্যহত আছে। গত নজরুল জয়ন্তী প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালে আসলে এই পরিবারের সাক্ষাতের সময় দোকানের জন্যে কিছু পুজি দাবী করলে তিনি আশ্বস্থ করেন। যা আজ জেলা প্রশাসক পক্ষ থেকে হস্তান্তর করা হয়।

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 






















