১১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে বিমান দুর্ঘটনা: সেলফি এখন স্মৃতি

 

উন্নত জীবনের আশায় ভারতে শেষ হলো এক পরিবারের সকল স্বপ্ন। গুজরাটের আহমেদাবাদে ভয়াবহ এক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন রাজস্থানের চিকিৎসক দম্পতি ও তাদের তিন সন্তান। এই দুর্ঘটনা শুধু তাদের জীবনই থামিয়ে দেয়নি, স্তব্ধ করে দিয়েছে একটি ভবিষ্যতের স্বপ্নও।

 

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসস্তূপের নিচে হয়তো আজও কোথাও চাপা পড়ে আছে তাদের মোবাইল ফোন। হয়তো সেটি আগুনে পুড়ে গেছে, কিন্তু সেই ফোনে তোলা একটি হাস্যোজ্জ্বল সেলফি আজও জীবন্ত হয়ে আছে স্মৃতির পাতায়। সেই ছবিতে ধরা আছে নতুন জীবনের পথে যাত্রার এক আনন্দঘন মুহূর্ত।

 

ডা. কোমি ভ্যাশ ও ডা. প্রতীক জোশি, যমজ দুই পুত্র নকুল ও প্রদ্যুৎ (বয়স ৫ বছর) এবং মেয়ে মিরায়া (বয়স ৮ বছর)—এই পাঁচ সদস্যের পরিবারটি লন্ডনে নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছিল। উদয়পুরের একটি হাসপাতালে কর্মরত কোমি সদ্য চাকরি ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমাতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করার ঠিক পরপরই ঘটে দুর্ঘটনাটি।

 

সেলফিতে দেখা যায়, ডা. প্রতীক নিজেই ছবি তুলছেন, পাশে আছেন স্ত্রী কোমি, আর সামনের সারিতে বসে আছে তাদের তিন সন্তান। ছবির সবার মুখে ছিল উচ্ছ্বাস, যা এখন কেবলই একটি বেদনাদায়ক স্মৃতিচিহ্ন।

 

পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের বরাতে জানা যায়, প্রতীক কিছুদিন আগে লন্ডনে যান এবং এরপর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতে ফিরে আসেন। প্রয়াত কোমির বাবা ছিলেন রাজ্য সরকারের গণপূর্ত বিভাগে কর্মরত এবং প্রতীকের বাবা একজন খ্যাতনামা রেডিওলজিস্ট।

 

প্রসঙ্গত, আহমেদাবাদের সরদার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করা বিমানটি স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে আকাশে উঠার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রবল শব্দের পরপরই বিমানটি ভূপাতিত হয়। এ সময় বিমানটিতে মোট ২৪২ জন যাত্রী ছিলেন।

 

এ দুর্ঘটনায় বেঁচে যান কেবল একজন যাত্রী। সরকার ও টাটা কর্তৃপক্ষ প্রতিটি নিহতের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রী মধুপুরের আনারস চাষীদের ব্যাপারে আন্তরিক: চিনি ও খাদ্য কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই: প্রিন্স

02 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ভারতে বিমান দুর্ঘটনা: সেলফি এখন স্মৃতি

পোষ্টের সময় : ১২:১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫

 

উন্নত জীবনের আশায় ভারতে শেষ হলো এক পরিবারের সকল স্বপ্ন। গুজরাটের আহমেদাবাদে ভয়াবহ এক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন রাজস্থানের চিকিৎসক দম্পতি ও তাদের তিন সন্তান। এই দুর্ঘটনা শুধু তাদের জীবনই থামিয়ে দেয়নি, স্তব্ধ করে দিয়েছে একটি ভবিষ্যতের স্বপ্নও।

 

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসস্তূপের নিচে হয়তো আজও কোথাও চাপা পড়ে আছে তাদের মোবাইল ফোন। হয়তো সেটি আগুনে পুড়ে গেছে, কিন্তু সেই ফোনে তোলা একটি হাস্যোজ্জ্বল সেলফি আজও জীবন্ত হয়ে আছে স্মৃতির পাতায়। সেই ছবিতে ধরা আছে নতুন জীবনের পথে যাত্রার এক আনন্দঘন মুহূর্ত।

 

ডা. কোমি ভ্যাশ ও ডা. প্রতীক জোশি, যমজ দুই পুত্র নকুল ও প্রদ্যুৎ (বয়স ৫ বছর) এবং মেয়ে মিরায়া (বয়স ৮ বছর)—এই পাঁচ সদস্যের পরিবারটি লন্ডনে নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছিল। উদয়পুরের একটি হাসপাতালে কর্মরত কোমি সদ্য চাকরি ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমাতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করার ঠিক পরপরই ঘটে দুর্ঘটনাটি।

 

সেলফিতে দেখা যায়, ডা. প্রতীক নিজেই ছবি তুলছেন, পাশে আছেন স্ত্রী কোমি, আর সামনের সারিতে বসে আছে তাদের তিন সন্তান। ছবির সবার মুখে ছিল উচ্ছ্বাস, যা এখন কেবলই একটি বেদনাদায়ক স্মৃতিচিহ্ন।

 

পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের বরাতে জানা যায়, প্রতীক কিছুদিন আগে লন্ডনে যান এবং এরপর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতে ফিরে আসেন। প্রয়াত কোমির বাবা ছিলেন রাজ্য সরকারের গণপূর্ত বিভাগে কর্মরত এবং প্রতীকের বাবা একজন খ্যাতনামা রেডিওলজিস্ট।

 

প্রসঙ্গত, আহমেদাবাদের সরদার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করা বিমানটি স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে আকাশে উঠার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রবল শব্দের পরপরই বিমানটি ভূপাতিত হয়। এ সময় বিমানটিতে মোট ২৪২ জন যাত্রী ছিলেন।

 

এ দুর্ঘটনায় বেঁচে যান কেবল একজন যাত্রী। সরকার ও টাটা কর্তৃপক্ষ প্রতিটি নিহতের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

Share this news as a Photo Card