নেত্রকোনার মদনে কোরবানীর হাটে গরু বিক্রি করে ফেরার পথে পূর্বশত্রুতার জের ধরে কাংকন (৬৫) নামে বৃদ্ধকে মাটিতে ফেলে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় কাংকন মিয়ার দু’পায়ের গোড়ালি ভেঙে দিয়েছে প্রতি পক্ষের লোকজন। শুক্রবার জুম্মার নামাযের সময় উপজেলা গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নে গোবিন্দশ্রীর সুজন বাজার থেকে আসার পথে মদন-খালিয়াজুড়ী সড়কে ঈদগাহ মাঠের পাশে এমন ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই দিন বিকালে ভিকটিমের স্ত্রী রুমেলা আক্তার মদন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
থানা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দশ্রী গ্রামের আহত বৃদ্ধ কাঞ্চন মিয়ার ভাগ্নে সাজিবের সাথে সবুজ মিয়ার ছেলে রুবিনের বৃহস্পতিবার সকালে টাকা লেনদেন নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কিলঘুষির ঘটনাও ঘটে। পরে রুবিন মিয়া বাড়ি চলে যায়। ওই দিন বিকালে সাজিব মিয়ার পাড়ার নয়ন মিয়ার ছেলে অন্তর মিয়া বালই নদীর পাড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে রুবিন মিয়ার লোকজন পথ গতিরোধ করে অন্তর মিয়াকে তাদের বাড়িতে নিয়ে বেঁধে রাখে। বিষয়টি পাড়ার লোকজন জানতে পেরে দুই ইউপি সদস্য অন্তর মিয়াকে তাদের জিম্মায় নিয়ে আসে এবং দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে প্রতিশ্রুতি দেয়। শুক্রবার সাপ্তাহিক ঈদ উপলক্ষে গরুর হাট সুজন বাজারে যান বৃদ্ধ কাঞ্চন মিয়া। গরু বিক্রি করে বাড়ি দিকে রওনা হন কাংকন মিয়া। এ সময় পরিকল্পিতভাবে মদন-খালিয়াজুড়ী সড়কে বাইসাইকেল যোগে বাড়ি আসার পথে ঈদগাহ মাঠের পাশে কাঞ্চন মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাইসাইকেল থেকে নামিয়ে ৫/৬জন গতিরোধ করে মারপিট শুরু করে। এ সময় তাদের আঘাতে কাংকন মিয়ার দু’পায়ের গুড়াঁলি ভেঙে দেয়। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে মদন হাসপাতালে নিয়ে আসে। গুরুত্বর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় প্রেক্ষিতে আহত কাঞ্চন মিয়ার স্ত্রী রুমেলা আক্তার ৫/৬ জনকে অভিযুক্ত করে মদন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে রুমেলা আক্তার আরও উল্লেখ করে যে,তার স্বামীকে মারপিট করে এবং গরু বিক্রির ২ লাখ টাকাও তারা নিয়ে যায়। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান রুমেলা আক্তার।
ব্যাপারে অভিযুক্ত রুবিনের ভাই কাওছার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলে, গতকাল জুয়া খেলার টাকা নিয়ে আমার ভাইকে তারা মারপিট করে। এই জন্যইত আজকে এমন ঘটনা ঘটেছে। গতকাল অন্তর নামে একজনকে বেঁধে রেখেছিলা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাওছার আরও জানায়, দুই মেম্বার অন্তরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। পরে তারা বলছিল বিষয়টি দ্রুত মিমাংসা করবে কিন্তু তারা করে নাই।
মদন থানার ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান , এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরণ করা হয়েছে।
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 






















