রংপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির অধীনে চলা সব বাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। শ্রমিক নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য এই রুটে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানান।
শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া এলাকায় ইউনিয়নের উপ-কমিটির দপ্তর সম্পাদক সফিকুল ইসলামের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জেরে রংপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির কয়েকজন নেতা-কর্মী সফিকুলকে আটক করে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেন এবং পুরো ঘটনা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকে জানান।
ঘটনার পর নীলফামারী জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, শ্রমিক কর্মকর্তার ওপর হামলার ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত রংপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির আওতাভুক্ত কোনো বাস নীলফামারীতে প্রবেশ করতে পারবে না এবং এখান থেকেও বের হতে পারবে না। ফলে সন্ধ্যার পর থেকেই রংপুর-সৈয়দপুর, রংপুর-নীলফামারী ও রংপুর-জলঢাকা রুটে বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে ঢাকা ও অন্যান্য জেলার সমিতির বাসগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে।
এক শ্রমিক আনারুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রতিদিন গাড়িতে পরিশ্রম করে পরিবার চালাই। কিন্তু মালিক সমিতির লোকজন যদি আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে, তাহলে আমরা কীভাবে নিরাপদে কাজ করবো? এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আলী জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা না দেওয়ার পাশাপাশি মারধরের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটানো অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, “ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত রংপুর মালিক সমিতির বাস কোনোভাবেই নীলফামারী-মুখী বা নীলফামারী হয়ে অন্য জেলায় যেতে পারবে না।”
ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো রুটেই তারা ছাড় দেবেন না।
স্টাফ রিপোর্টার 



















