জামালপুরের বকশীগঞ্জে সারের সংকট ঘিরে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে বাট্টাজোড় নতুন বাজার এলাকায় তারা বকশীগঞ্জ–রৌমারী সড়ক অবরোধ করেন। আকস্মিক অবরোধের কারণে দুই পাশে কয়েকশ যানবাহন আটকে পড়ে, ফলে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে এলাকায় ইউরিয়া ও নন–ইউরিয়া উভয় ধরনের সারের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে কৃষকেরা ডিলারদের কাছে গেলেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাচ্ছেন না। এ নিয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগ ডিলারদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করলেও সংকট নিরসন হয়নি।
গতকাল ছিল সারের বিতরণের দিন। বাট্টাজোড় নতুন বাজারে ডিলারের দোকানে সার নেওয়ার জন্য সকালে থেকেই ভিড় করেন কৃষকেরা। কিন্তু তাদের অভিযোগ—ডিলার রোমান মিয়া নিজের পছন্দের কয়েকজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সার দেন এবং পরে দোকান বন্ধ করে চলে যান। এতে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা সড়কে বসে পড়েন এবং একপর্যায়ে পুরো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
ডিলার রোমান মিয়ার দাবি, বরাদ্দকৃত সারের তুলনায় সার নিতে আসা কৃষকের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় তিনি বিক্রি বন্ধ করেছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। তারা কৃষকদের সার সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
স্থানীয় কৃষক এনামুল হক, মমিন মিয়া ও হিরা বেগম বলেন, মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেলে ফসল উৎপাদনে বড় ক্ষতি হবে। কৃষি অফিস বলছে সংকট নেই, কিন্তু ডিলাররা সার দিচ্ছেন না—এ অবস্থায় তারা হতাশ ও উদ্বিগ্ন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি মাসের মতো বরাদ্দ রয়েছে। তবে প্রকৃত কৃষককে সার দিতে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে বিতরণ করা হবে, যাতে কেউ অন্যায় সুবিধা নিতে না পারে।
স্টাফ রিপোর্টার 



















