০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অফিস টাইম ছাড়া কল দেয়ায় রেগে গেলেন হল প্রভোস্ট

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর দোলনচাঁপা হলের ৪০৬ নম্বর কক্ষে সিনিয়র রুমমেট কর্তৃক জুনিয়রকে মানসিকভাবে চাপে রাখার অভিযোগ উঠেছে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। মানসিক চাপের কারণে সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী গতকাল অসুস্থ হয়ে পড়লে হল প্রভোস্টকে প্রত্যক্ষদর্শীরা কল করলে হল প্রভোস্ট ক্ষেপে যান।

 

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ এবং আইন ও বিচার বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক হাজার টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন ওই সিনিয়র রুমমেট। বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে কক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সিএসই বিভাগের এক শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে সহপাঠীরা তাকে দ্রুত ত্রিশাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা অক্সিজেন দেওয়ার পর তার জ্ঞান ফিরে আসে।

 

ঘটনার সময় হল প্রভোস্ট উম্মে ফারহানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অফিস টাইম ছাড়া আমাকে ফোন করা যাবে না।” এ বক্তব্যকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, একজন আবাসিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া উচিত ছিল।

 

পরে এবিষয়ে হল প্রভোস্টের কাছে একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট উম্মে ফারহানা সাংবাদিকের উপর ক্ষেপে যান এবং বলেন, “আমি অনেক কিছু জানি, যা আপনাদের বলবো না। আপনাদের সাংবাদিকগিরি একধরনের ফাতরামি করা ছাড়া কিছুই না। যে শিক্ষার্থী সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করেছে, তাকে আমি খুঁজে বের করব এবং প্রয়োজন হলে তার সিট বাতিল করবো।”

 

তিনি আরও বলেন, “হলের হাউস টিউটরদের মাধ্যমে বিষয়গুলো জানানো উচিত ছিল। হাউস টিউটররা আমাকে না জানালে আমি কোনো উড়ো ফোন কলের ভিত্তিতে ত্রিশালে যেতে পারি না। শুক্রবার আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকি না। সরাসরি আমাকে ফোন না করে আগে হাউস টিউটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত ছিল।”

 

ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আবাসিক হলে পারস্পরিক সহাবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

 

শিক্ষার্থীরা আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসছিল পুলিশ সদস্যের বাবার লাশ

আওয়ামী বন্দোবস্তের অপরাজনীতি করে জুলাই চেতনা ভূলুণ্ঠিত করছে জামায়াত-এনসিপি: প্রিন্স

31 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

অফিস টাইম ছাড়া কল দেয়ায় রেগে গেলেন হল প্রভোস্ট

পোষ্টের সময় : ০৩:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর দোলনচাঁপা হলের ৪০৬ নম্বর কক্ষে সিনিয়র রুমমেট কর্তৃক জুনিয়রকে মানসিকভাবে চাপে রাখার অভিযোগ উঠেছে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। মানসিক চাপের কারণে সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী গতকাল অসুস্থ হয়ে পড়লে হল প্রভোস্টকে প্রত্যক্ষদর্শীরা কল করলে হল প্রভোস্ট ক্ষেপে যান।

 

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ এবং আইন ও বিচার বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক হাজার টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন ওই সিনিয়র রুমমেট। বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে কক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সিএসই বিভাগের এক শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে সহপাঠীরা তাকে দ্রুত ত্রিশাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা অক্সিজেন দেওয়ার পর তার জ্ঞান ফিরে আসে।

 

ঘটনার সময় হল প্রভোস্ট উম্মে ফারহানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অফিস টাইম ছাড়া আমাকে ফোন করা যাবে না।” এ বক্তব্যকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, একজন আবাসিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া উচিত ছিল।

 

পরে এবিষয়ে হল প্রভোস্টের কাছে একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট উম্মে ফারহানা সাংবাদিকের উপর ক্ষেপে যান এবং বলেন, “আমি অনেক কিছু জানি, যা আপনাদের বলবো না। আপনাদের সাংবাদিকগিরি একধরনের ফাতরামি করা ছাড়া কিছুই না। যে শিক্ষার্থী সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করেছে, তাকে আমি খুঁজে বের করব এবং প্রয়োজন হলে তার সিট বাতিল করবো।”

 

তিনি আরও বলেন, “হলের হাউস টিউটরদের মাধ্যমে বিষয়গুলো জানানো উচিত ছিল। হাউস টিউটররা আমাকে না জানালে আমি কোনো উড়ো ফোন কলের ভিত্তিতে ত্রিশালে যেতে পারি না। শুক্রবার আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকি না। সরাসরি আমাকে ফোন না করে আগে হাউস টিউটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত ছিল।”

 

ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আবাসিক হলে পারস্পরিক সহাবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

 

শিক্ষার্থীরা আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

 

Share this news as a Photo Card