ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় রোববার রাতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রাতভর চলা এই সংঘর্ষে আগুনে পুড়ে যায় সিটি ইউনিভার্সিটির ১৩টি গাড়ি, ব্যাপক ভাঙচুর হয় প্রশাসনিক ভবনে, লুট হয় মূল্যবান নথি ও সরঞ্জাম। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ঘটনা শুরু হয় রোববার সন্ধ্যায় খাগান এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস’ নামের একটি ভাড়া বাসার সামনে সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর থুতু অসতর্কতাবশত ড্যাফোডিলের এক ছাত্রের গায়ে লাগে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শিক্ষকদের মধ্যস্থতায় প্রথমে বিষয়টি মীমাংসা হলেও কিছু ঘণ্টা পর পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা সিটি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়।
সিটি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমাদের ১৩টির বেশি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক ভবনের অফিস, নথিপত্র, ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার পর্যন্ত ভাঙচুর করা হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি টাকা।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘রাতে পুলিশকে জানানো হলেও তারা কোনো সহায়তা দেয়নি।’
সংঘর্ষে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের অনেককে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সিটি ইউনিভার্সিটির ১১ শিক্ষার্থীকে আটক করে পরে ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিটি ইউনিভার্সিটির ছাত্রী হলেও হামলা হয় এবং কিছু নথি ও কম্পিউটার লুট করা হয়। পুরো ক্যাম্পাস ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ড্যাফোডিলের অ্যাসোসিয়েট ডিন বিমল চন্দ্র রায় বলেন, ‘এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখিত।’
পুলিশ জানায়, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো হয়, তবে হাজারো উত্তেজিত শিক্ষার্থীর ভিড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।’
বর্তমানে আশুলিয়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সিটি ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণাকরা হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 




















