ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মনে করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে টার্গেটেড হামলা সংঘাতকে আরও উসকে দেবে না, বরং তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার ইতি টানতে সহায়ক হতে পারে।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। সাক্ষাৎকারে তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, ইসরায়েল কি খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনা করছে? উত্তরে নেতানিয়াহু কৌশলীভাবে বলেন, “আমরা যা দরকার, তাই করছি।” তাঁর এই বক্তব্য থেকেই বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় নতুন এক মাত্রা যুক্ত হতে পারে।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, “ইরান বহু বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দিয়ে আসছে। তাদের উদ্দেশ্য একটি চিরস্থায়ী যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করা। শুধু তাই নয়, তারা ইসরায়েলকে পরমাণু যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। আমরা এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছি, এবং এই হুমকি প্রতিহত করতে হলে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইসরায়েল এখন আর কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নেই—বরং তারা প্রয়োজন হলে আগ্রাসী প্রতিক্রিয়ার পথেও হাঁটতে প্রস্তুত। খামেনিকে সরিয়ে দিলে ইরানের নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হবে এবং এতে দেশটির প্রভাব ও আগ্রাসী নীতি দুর্বল হবে বলেই বিশ্বাস নেতানিয়াহুর।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এমন অবস্থান শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের ভূরাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও ইরান এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে যুদ্ধাপরাধের হুমকি বলেও অভিহিত করার সম্ভাবনা রয়েছে তেহরানের।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এমন উত্তপ্ত বাস্তবতায় একটি ভুল সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে—এই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


























