০১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদুল আজহা ঘিরে ভারতে পশুর হাট বন্ধের নির্দেশ, উঠেছে সমালোচনার ঝড়

 

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে ৩ জুন থেকে ৮ জুন পর্যন্ত সমস্ত পশুর হাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকার খবরে জানা যায়, মহারাষ্ট্র গোসেবা আয়োগ রাজ্যের কৃষি উৎপাদন বাজার কমিটিগুলোকে চিঠি দিয়ে পশুর হাট বন্ধে নির্দেশনা দেয়। এতে বলা হয়, মহারাষ্ট্র পশু সুরক্ষা আইন ১৯৭৬ এবং সংশোধিত পশু সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, গরু, বলদ ও ষাঁড় জবাই নিষিদ্ধ। এ আইন বাস্তবায়নে পশুর হাট বন্ধ রাখা জরুরি।

 

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্রামাঞ্চলে কোনো পশুর হাট যেন না বসে, যাতে গরু জবাইয়ের মতো অবৈধ কার্যকলাপ রোধ করা যায়। যদিও এই নির্দেশনায় সরাসরি গরু ছাড়া অন্যান্য পশুর নাম উল্লেখ নেই, তবুও এর প্রভাবে ছাগল, ভেড়া, মহিষসহ সব ধরনের পশু বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ‘বঞ্চিত বহুজন অঘাড়ি’ (ভিবিএ) দল। দলটির দাবি, এই সিদ্ধান্ত কৃষক, পশু ব্যবসায়ী, পরিবহনকর্মী ও কসাইদের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ভিবিএ’র রাজ্য মুখপাত্র তৈয়্যব জাফর বলেন, “গোসেবা আয়োগ একটি পরামর্শদাতা সংস্থা, তাদের প্রশাসনিক নির্দেশ জারির অধিকার নেই। এটি সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।”

 

তিনি আরও বলেন, “আইন অনুযায়ী কেবল পরিবহনকারী ও ক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বিক্রেতাদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে, যা আইনের সাম্যের নীতির পরিপন্থী। এছাড়া জেলার ভেতরে পশু পরিবহনকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যা আইনবহির্ভূত।”

 

অন্যদিকে গোসেবা আয়োগের চেয়ারম্যান শেখর মুন্ডাডা জানান, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ঈদের সময় গরু জবাই বন্ধ রাখা। ছাগল বা অন্যান্য পশুর বিক্রি এক সপ্তাহ বন্ধ থাকলেও এটি পরামর্শমূলক নির্দেশ, বাধ্যতামূলক নয়।”

 

উল্লেখ্য, বর্তমানে মহারাষ্ট্রে ২৯২টি পশুর হাটসহ মোট ৯০০টির বেশি কৃষি উৎপাদন বাজার কমিটি রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশই এপিএমসির আওতাধীন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ঈশ্বরগঞ্জের সাজ্জাদ রোমন

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়ে ইতিবাচক বাংলাদেশ

11 October 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ঈদুল আজহা ঘিরে ভারতে পশুর হাট বন্ধের নির্দেশ, উঠেছে সমালোচনার ঝড়

পোষ্টের সময় : ১২:১৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫

 

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে ৩ জুন থেকে ৮ জুন পর্যন্ত সমস্ত পশুর হাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকার খবরে জানা যায়, মহারাষ্ট্র গোসেবা আয়োগ রাজ্যের কৃষি উৎপাদন বাজার কমিটিগুলোকে চিঠি দিয়ে পশুর হাট বন্ধে নির্দেশনা দেয়। এতে বলা হয়, মহারাষ্ট্র পশু সুরক্ষা আইন ১৯৭৬ এবং সংশোধিত পশু সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, গরু, বলদ ও ষাঁড় জবাই নিষিদ্ধ। এ আইন বাস্তবায়নে পশুর হাট বন্ধ রাখা জরুরি।

 

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্রামাঞ্চলে কোনো পশুর হাট যেন না বসে, যাতে গরু জবাইয়ের মতো অবৈধ কার্যকলাপ রোধ করা যায়। যদিও এই নির্দেশনায় সরাসরি গরু ছাড়া অন্যান্য পশুর নাম উল্লেখ নেই, তবুও এর প্রভাবে ছাগল, ভেড়া, মহিষসহ সব ধরনের পশু বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ‘বঞ্চিত বহুজন অঘাড়ি’ (ভিবিএ) দল। দলটির দাবি, এই সিদ্ধান্ত কৃষক, পশু ব্যবসায়ী, পরিবহনকর্মী ও কসাইদের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ভিবিএ’র রাজ্য মুখপাত্র তৈয়্যব জাফর বলেন, “গোসেবা আয়োগ একটি পরামর্শদাতা সংস্থা, তাদের প্রশাসনিক নির্দেশ জারির অধিকার নেই। এটি সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।”

 

তিনি আরও বলেন, “আইন অনুযায়ী কেবল পরিবহনকারী ও ক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বিক্রেতাদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে, যা আইনের সাম্যের নীতির পরিপন্থী। এছাড়া জেলার ভেতরে পশু পরিবহনকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যা আইনবহির্ভূত।”

 

অন্যদিকে গোসেবা আয়োগের চেয়ারম্যান শেখর মুন্ডাডা জানান, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ঈদের সময় গরু জবাই বন্ধ রাখা। ছাগল বা অন্যান্য পশুর বিক্রি এক সপ্তাহ বন্ধ থাকলেও এটি পরামর্শমূলক নির্দেশ, বাধ্যতামূলক নয়।”

 

উল্লেখ্য, বর্তমানে মহারাষ্ট্রে ২৯২টি পশুর হাটসহ মোট ৯০০টির বেশি কৃষি উৎপাদন বাজার কমিটি রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশই এপিএমসির আওতাধীন।

 

Share this news as a Photo Card