চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। গাছের সঙ্গে হাত ও গলা বাঁধা অবস্থায় মোহাম্মদ সোহেল মিয়া (১৭) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নাজিরহাট পৌরসভার উদালিয়া চা–বাগানের মদিনা টিলা এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত সোহেলের বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারি উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া গ্রামে। জীবিকার প্রয়োজনে কম বয়সেই তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এসে অটোরিকশা চালাতেন—এ তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
স্থানীয়রা জানান, সকালে চা–বাগান এলাকার পাশ দিয়ে যাওয়া কয়েকজন পথচারী প্রথমে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় সোহেলের নিথর দেহ দেখতে পান। পরে তারা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ তার হাত এবং গলা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে।
উদালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জৌতিষ চন্দ্র দেব বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে সোহেলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার গলায় স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা হত্যারই আলামত। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনায় কারা জড়িত থাকতে পারে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ধারণা, সোহেল অটোরিকশা চালাতেন বলে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ, ছিনতাইচেষ্টা অথবা পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপ্রাপ্তবয়স্ক একজন শ্রমজীবী কিশোরকে এভাবে বেঁধে হত্যা করার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে কাজ চলছে। খুব দ্রুত ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্টাফ রিপোর্টার 



















