০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘন্টায় তিন অগ্নিকাণ্ডে গাজীপুরে ভয়াবহ ক্ষতি

 

গাজীপুরে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি পৃথক স্থানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব আগুনে চারটি তুলার গুদাম, একটি ঝুটের গোডাউন ও একটি টিনশেড কলোনি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হতে পারে।

 

সোমবার (১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টার মধ্যেই টঙ্গীর মাঝুখান এলাকা, গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী আমবাগ এবং কালিয়াকৈর পৌরসভার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার দিঘিরপার অঞ্চলে আগুনের ঘটনাগুলো ঘটে।

 

টঙ্গীর মাঝুখানে প্রথম অগ্নিকাণ্ডটি শুরু হয় ভোর ৫টার দিকে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একটি তুলার গুদামে আগুন দেখা দিলে মুহূর্তেই তা পাশের দুইটি গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে থাকলে স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে টানা এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ততক্ষণে গুদাম তিনটির সব মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

 

এদিকে, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কোনাবাড়ীর আমবাগ পূর্ব পাড়া এলাকায় পলাশ মিয়ার মালিকানাধীন একটি ঝুটের গুদামে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত গুদামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রচণ্ড ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। ফায়ার সার্ভিসের আরও চারটি ইউনিট সেখানে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাজ করে আগুন নিভিয়ে ফেলে। গুদামের ভেতরের সব ঝুট ও মালামাল আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্টরা।

 

এ ছাড়া, কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার দিঘিরপার অঞ্চলে সকাল ১০টার দিকে একটি টিনশেড কলোনিতে হঠাৎ আগুন দেখা দেয়। ঘিঞ্জি পরিবেশ হওয়ায় আগুন দ্রুত কলোনির বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও কলোনির বসবাসকারী পরিবারের সব আসবাবপত্র ও সামগ্রী পুড়ে যায়।

 

একাধিক অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ঘটনা তিনটির সম্ভাব্য উৎস ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা অসতর্কতাই এসব আগুনের পেছনে কারণ হতে পারে। স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

বাবা-মাকে পেটালো প্রতিপক্ষরা, কান্নায় ভেঙে পড়লেন একমাত্র ছেলে

মেধা ও উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ময়মনসিংহের তরুণ গবেষক স্বরন

18 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ঘন্টায় তিন অগ্নিকাণ্ডে গাজীপুরে ভয়াবহ ক্ষতি

পোষ্টের সময় : ১১:২৬:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

 

গাজীপুরে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি পৃথক স্থানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব আগুনে চারটি তুলার গুদাম, একটি ঝুটের গোডাউন ও একটি টিনশেড কলোনি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হতে পারে।

 

সোমবার (১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টার মধ্যেই টঙ্গীর মাঝুখান এলাকা, গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী আমবাগ এবং কালিয়াকৈর পৌরসভার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার দিঘিরপার অঞ্চলে আগুনের ঘটনাগুলো ঘটে।

 

টঙ্গীর মাঝুখানে প্রথম অগ্নিকাণ্ডটি শুরু হয় ভোর ৫টার দিকে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একটি তুলার গুদামে আগুন দেখা দিলে মুহূর্তেই তা পাশের দুইটি গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে থাকলে স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে টানা এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ততক্ষণে গুদাম তিনটির সব মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

 

এদিকে, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কোনাবাড়ীর আমবাগ পূর্ব পাড়া এলাকায় পলাশ মিয়ার মালিকানাধীন একটি ঝুটের গুদামে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত গুদামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রচণ্ড ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। ফায়ার সার্ভিসের আরও চারটি ইউনিট সেখানে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাজ করে আগুন নিভিয়ে ফেলে। গুদামের ভেতরের সব ঝুট ও মালামাল আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্টরা।

 

এ ছাড়া, কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার দিঘিরপার অঞ্চলে সকাল ১০টার দিকে একটি টিনশেড কলোনিতে হঠাৎ আগুন দেখা দেয়। ঘিঞ্জি পরিবেশ হওয়ায় আগুন দ্রুত কলোনির বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও কলোনির বসবাসকারী পরিবারের সব আসবাবপত্র ও সামগ্রী পুড়ে যায়।

 

একাধিক অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ঘটনা তিনটির সম্ভাব্য উৎস ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা অসতর্কতাই এসব আগুনের পেছনে কারণ হতে পারে। স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card