০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকরিচ্যুতদের বিক্ষোভে ভেস্তে গেল প্রশাসকের সংবর্ধনা

 

বিদায়ের প্রাক্কালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার তুমুল ক্ষোভের মুখে পড়েছেন। অনুগত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সোমবার নগর ভবনে তাঁর জন্য বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু চাকরি হারানো শ্রমিকরা সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পুরো অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ তুলে ধরেন বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা।

 

রায়হান কাওছার গত বছরের আগস্টে বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং একই সাথে বিসিসির প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর আচরণ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। বদমেজাজ, অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তিনি শহরজুড়ে সমালোচিত ছিলেন। অবশেষে গত ১৩ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে তাঁকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশন কর্মচারী ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান মানিক বলেন, ২০০৩ সালে নিয়োগ পাওয়া ১২১ কর্মচারীকে ওয়ান ইলেভেনের সময়ে ছাঁটাই করা হয়। উচ্চ আদালত তাদের নিয়োগ বৈধ ঘোষণা করলেও বহু বছর তারা কাজে ফিরতে পারেননি। ২০২৩ সালে কাজে যোগ দিলেও স্থায়ী হননি কেউ। বিধি অনুযায়ী স্থায়ীকরণের সুযোগ থাকলেও প্রশাসক তা না করে বারবার হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ তাদের। তাঁদের দাবি, রায়হান কাওছারের কক্ষে গেলে তিনি গালিগালাজ করেন এবং সোমবার তো গুলি করার হুমকি পর্যন্ত দেন।

 

ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান বলেন, নিয়োগ-বাণিজ্য, দরপত্র ছাড়া ঠিকাদারি, পদোন্নতিতে অনিয়ম—এসব অভিযোগ প্রশাসকের বিরুদ্ধে বহু দিন ধরেই আসছে। সহকারী প্রকৌশলী আরাফাত হোসেন মনির দাবি, সম্প্রতি কুয়াকাটায় রিসোর্টের জন্য কয়েক কোটি টাকার জমি কেনার সময়ও ঘুষ নেওয়া হয়েছে।

 

আরও জানা যায়, প্রশাসক ১৫৯ অস্থায়ী শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করেছেন, যাদের কাউকে কোনো আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়নি। এছাড়া ১২ জনকে ওএসডি করে প্রতিদিন অফিস সময়জুড়ে তাঁর কক্ষের সামনে বসে থাকতে বাধ্য করা হয়—যার মধ্যে তিনজন প্রতিবন্ধী শ্রমিকও ছিলেন।

 

অভিযোগগুলোর সবই অস্বীকার করে প্রশাসক মো. রায়হান কাওছার বলেন, বয়সজনিত কারণে ১৫৯ জন বাদ পড়েছেন, স্থায়ীকরণের দাবি আইনি ভিত্তিহীন। কুয়াকাটা জমি কেনা, দরপত্রবিহীন কাজ কিংবা হুমকি–এসব অভিযোগকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

বাবা-মাকে পেটালো প্রতিপক্ষরা, কান্নায় ভেঙে পড়লেন একমাত্র ছেলে

মেধা ও উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ময়মনসিংহের তরুণ গবেষক স্বরন

18 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

চাকরিচ্যুতদের বিক্ষোভে ভেস্তে গেল প্রশাসকের সংবর্ধনা

পোষ্টের সময় : ১০:০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

 

বিদায়ের প্রাক্কালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার তুমুল ক্ষোভের মুখে পড়েছেন। অনুগত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সোমবার নগর ভবনে তাঁর জন্য বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু চাকরি হারানো শ্রমিকরা সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পুরো অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ তুলে ধরেন বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা।

 

রায়হান কাওছার গত বছরের আগস্টে বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং একই সাথে বিসিসির প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর আচরণ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। বদমেজাজ, অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তিনি শহরজুড়ে সমালোচিত ছিলেন। অবশেষে গত ১৩ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে তাঁকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশন কর্মচারী ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান মানিক বলেন, ২০০৩ সালে নিয়োগ পাওয়া ১২১ কর্মচারীকে ওয়ান ইলেভেনের সময়ে ছাঁটাই করা হয়। উচ্চ আদালত তাদের নিয়োগ বৈধ ঘোষণা করলেও বহু বছর তারা কাজে ফিরতে পারেননি। ২০২৩ সালে কাজে যোগ দিলেও স্থায়ী হননি কেউ। বিধি অনুযায়ী স্থায়ীকরণের সুযোগ থাকলেও প্রশাসক তা না করে বারবার হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ তাদের। তাঁদের দাবি, রায়হান কাওছারের কক্ষে গেলে তিনি গালিগালাজ করেন এবং সোমবার তো গুলি করার হুমকি পর্যন্ত দেন।

 

ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান বলেন, নিয়োগ-বাণিজ্য, দরপত্র ছাড়া ঠিকাদারি, পদোন্নতিতে অনিয়ম—এসব অভিযোগ প্রশাসকের বিরুদ্ধে বহু দিন ধরেই আসছে। সহকারী প্রকৌশলী আরাফাত হোসেন মনির দাবি, সম্প্রতি কুয়াকাটায় রিসোর্টের জন্য কয়েক কোটি টাকার জমি কেনার সময়ও ঘুষ নেওয়া হয়েছে।

 

আরও জানা যায়, প্রশাসক ১৫৯ অস্থায়ী শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করেছেন, যাদের কাউকে কোনো আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়নি। এছাড়া ১২ জনকে ওএসডি করে প্রতিদিন অফিস সময়জুড়ে তাঁর কক্ষের সামনে বসে থাকতে বাধ্য করা হয়—যার মধ্যে তিনজন প্রতিবন্ধী শ্রমিকও ছিলেন।

 

অভিযোগগুলোর সবই অস্বীকার করে প্রশাসক মো. রায়হান কাওছার বলেন, বয়সজনিত কারণে ১৫৯ জন বাদ পড়েছেন, স্থায়ীকরণের দাবি আইনি ভিত্তিহীন। কুয়াকাটা জমি কেনা, দরপত্রবিহীন কাজ কিংবা হুমকি–এসব অভিযোগকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

 

Share this news as a Photo Card