নেত্রকোনার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ওষুধ পুড়িয়ে বিনষ্ট করার ঘটনায় গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটির কাছে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত স্টোর কিপার তৌকিক চৌধুরী। তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান।
গত ১২ আগস্ট গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। অভিযোগ ওঠে, ভারপ্রাপ্ত স্টোর কিপার তৌকিক চৌধুরী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিংবা স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিছু ওষুধ আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করেন। পরে বিষয়টি ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও নেত্রকোনা সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়।
বিষয়টি জানার পর একই দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. তায়েব হোসেনকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে অভিযুক্ত স্টোর কিপার তৌকিক চৌধুরী নিজের দোষ স্বীকার করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মদন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান বলেন, ‘হাসপাতালের ওষুধ কর্তৃপক্ষকে অবগত না করে স্টোর কিপার নিজের সিদ্ধান্তে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করেছেন। এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেখানে স্টোর কিপার নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। প্রতিবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা বলেন, ‘মদন উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আমরা পেয়েছি। সোম বা মঙ্গলবার আমাদের পাঁচ সদস্যের কমিটি প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করবে। প্রতিবেদন সঠিক মনে হলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। আর সঠিক মনে না হলে পুনরায় তদন্ত করা হবে।’
জানা গেছে, তৌকিক চৌধুরী ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে টিএলসিএ (টিবি অ্যান্ড লেপ্রসি কন্ট্রোল অ্যাসিস্ট্যান্ট) পদে মদন উপজেলা যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের অধীনে কর্মরত রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিনষ্টের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের তালিকা প্রস্তুত এবং অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় তা ধ্বংস করার বিধান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তৌকিক চৌধুরী ওই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি গোপন কক্ষে নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ পুড়িয়ে দেন।
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 

















