দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকটজনক হয়ে উঠছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) মশাবাহিত এ রোগে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় দুজন, ময়মনসিংহ বিভাগে দুজন এবং ঢাকা উত্তরে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনে ডেঙ্গুতে মোট ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ হিসেবে পুরো মাস শেষে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত একদিনে দেশে নতুন ১,১৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০০ জন এবং ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে ভর্তি হয়েছেন আরও ২৮৬ জন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৯৯৭ জনে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩৩৬ জন।
গত সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ৭৬ জনের মৃত্যু হলেও অক্টোবরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ জনে—যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। ওই মাসে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল ২২ হাজার ৫২০ জন। এ বছরের অক্টোবরের প্রথম ১৫ দিনেই ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৩৫ জনে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে।
২০০০ সালে ঢাকায় প্রথমবার বড় মাত্রায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ওই বছর ৫ হাজার ৫৫১ জন আক্রান্ত এবং ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা যায় ২০২৩ সালে। সে বছর তিন লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হন এবং মারা যান ১,৭০৫ জন—যা বাংলাদেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ মৃত্যু।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগী সংখ্যা ও মৃত্যুহার যেভাবে বাড়ছে, তাতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে মশাবাহুল্য কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
স্টাফ রিপোর্টার 



















