০৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দলীয় সরকারের অধীনে কখনো ভালো নির্বাচন হয় না : মাসুদ কামাল

 

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। দুটি আসনেই বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। এ নির্বাচনের সমালোচনা করে সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, ‘১৯৯১ সালে যে নির্বাচনটা হয়েছিল সে নির্বাচনে কিন্তু বিএনপি জিতেছিল এবং সেই নির্বাচনটা সুষ্ঠু নির্বাচন ছিল। বিচারপতি আব্দুর রউফ খুব ভালো নির্বাচন করেছিলেন।

 

কিন্তু মাগুরার একটা উপনির্বাচন ভালো করতে পারেননি বরং সেখান থেকে পালিয়ে চলে এসেছিলেন। তখনও বিএনপি সরকারে ছিল। এখান থেকে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছে সেটা হলো যে দলীয় সরকারের অধীনে কখনো একটা ভালো নির্বাচন হয় না, আমাদের দেশে সেই নির্বাচন কমিশন যত শক্তিশালী হোক না কেনো ম্যাটার করে না। সরকার যদি কোনো রাজনৈতিক দলীয় সরকার হয় তাহলে সেই সরকারের অধীনে নির্বাচন ভালো হয় না।’

 

 

ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিওতে সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল এসব কথা বলেন।

 

মাসুদ কামাল বলেন, ‘তারেক রহমানের যে বিএনপি সরকার সেই সরকারের অধীনে এটা হলো প্রথম নির্বাচন। এ নির্বাচনটা কি অভিযোগবিহীনভাবে হতে পেরেছে? এটা নিয়ে কিন্তু বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে। বগুড়া-৬ নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ খুব জোরালো কোনো অভিযোগ এসেছে বলে আমি দেখিনি।

 

কিন্তু শেরপুর তিন আসনে জামায়াত প্রার্থী নিজেই একটা প্রেস কনফারেন্স করেছেন এবং সে প্রেস কনফারেন্সে ব্যালটে আগে থেকে স্বাক্ষরসহ বেশ কয়েকটা অভিযোগ তুলে ধরেছেন। দুইটা আসনের কোনো কেন্দ্রে ভিড় ছিল না, যে আগে ভাগে সিগনেচার না করে রাখলে ভোট দেওয়া যেত না, কাজেই এটা একটা অন্যায় হয়েছে। জামাতের যিনি পুলিং এজেন্ট আছে তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে ও মারধর করা হয়েছে। সব খুঁটিনাটি বিষয় প্রকাশ করে নির্বাচন বর্জন করেছেনে।’

তিনি বলেন, ‘বর্জনের মতো ঘটনাটা ঘটলো কেন।

 

একটা নির্বাচন করবেন ঠিকঠাক মতো কেন করতে পারলেন না। নির্বাচন কমিশন বলেছে আন্তর্জাতিকভাবে নির্বাচন তারা করতে চান।’ বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সতর্ক ছিল না। তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিএনপি যদি তার দলের শেরপুরে যারা দলের নেতাকর্মী আছেন তাদেরকে উনারা যদি সতর্ক করে দিতেন আগে ভাগে যে আমরা কোনো ধরনের অভিযোগ শুনতে চাই না। জনগণ যে ভোটটা দেবে সেটাই হবে। তাহলে কিন্তু এই দৃশ্যগুলো আমাদের দেখতে হতো না।’

 

মাসুদ কামাল বলেন, ‘আমাদের দেশের আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ ছিল। কিন্তু আমার বিবেচনার সবচেয়ে বড় অভিযোগটা ছিল, আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাটাকে নষ্ট করে দিয়েছিলেন এবং সেই ঘটনার পুনারাবৃত্তি আমরা চাই না কিন্তু সেই ঘটনার সূচনা হয়ে গেছে।’

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে মদনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল 

22 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

দলীয় সরকারের অধীনে কখনো ভালো নির্বাচন হয় না : মাসুদ কামাল

পোষ্টের সময় : ১১:৫৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

 

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। দুটি আসনেই বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। এ নির্বাচনের সমালোচনা করে সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, ‘১৯৯১ সালে যে নির্বাচনটা হয়েছিল সে নির্বাচনে কিন্তু বিএনপি জিতেছিল এবং সেই নির্বাচনটা সুষ্ঠু নির্বাচন ছিল। বিচারপতি আব্দুর রউফ খুব ভালো নির্বাচন করেছিলেন।

 

কিন্তু মাগুরার একটা উপনির্বাচন ভালো করতে পারেননি বরং সেখান থেকে পালিয়ে চলে এসেছিলেন। তখনও বিএনপি সরকারে ছিল। এখান থেকে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছে সেটা হলো যে দলীয় সরকারের অধীনে কখনো একটা ভালো নির্বাচন হয় না, আমাদের দেশে সেই নির্বাচন কমিশন যত শক্তিশালী হোক না কেনো ম্যাটার করে না। সরকার যদি কোনো রাজনৈতিক দলীয় সরকার হয় তাহলে সেই সরকারের অধীনে নির্বাচন ভালো হয় না।’

 

 

ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিওতে সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল এসব কথা বলেন।

 

মাসুদ কামাল বলেন, ‘তারেক রহমানের যে বিএনপি সরকার সেই সরকারের অধীনে এটা হলো প্রথম নির্বাচন। এ নির্বাচনটা কি অভিযোগবিহীনভাবে হতে পেরেছে? এটা নিয়ে কিন্তু বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে। বগুড়া-৬ নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ খুব জোরালো কোনো অভিযোগ এসেছে বলে আমি দেখিনি।

 

কিন্তু শেরপুর তিন আসনে জামায়াত প্রার্থী নিজেই একটা প্রেস কনফারেন্স করেছেন এবং সে প্রেস কনফারেন্সে ব্যালটে আগে থেকে স্বাক্ষরসহ বেশ কয়েকটা অভিযোগ তুলে ধরেছেন। দুইটা আসনের কোনো কেন্দ্রে ভিড় ছিল না, যে আগে ভাগে সিগনেচার না করে রাখলে ভোট দেওয়া যেত না, কাজেই এটা একটা অন্যায় হয়েছে। জামাতের যিনি পুলিং এজেন্ট আছে তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে ও মারধর করা হয়েছে। সব খুঁটিনাটি বিষয় প্রকাশ করে নির্বাচন বর্জন করেছেনে।’

তিনি বলেন, ‘বর্জনের মতো ঘটনাটা ঘটলো কেন।

 

একটা নির্বাচন করবেন ঠিকঠাক মতো কেন করতে পারলেন না। নির্বাচন কমিশন বলেছে আন্তর্জাতিকভাবে নির্বাচন তারা করতে চান।’ বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সতর্ক ছিল না। তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিএনপি যদি তার দলের শেরপুরে যারা দলের নেতাকর্মী আছেন তাদেরকে উনারা যদি সতর্ক করে দিতেন আগে ভাগে যে আমরা কোনো ধরনের অভিযোগ শুনতে চাই না। জনগণ যে ভোটটা দেবে সেটাই হবে। তাহলে কিন্তু এই দৃশ্যগুলো আমাদের দেখতে হতো না।’

 

মাসুদ কামাল বলেন, ‘আমাদের দেশের আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ ছিল। কিন্তু আমার বিবেচনার সবচেয়ে বড় অভিযোগটা ছিল, আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাটাকে নষ্ট করে দিয়েছিলেন এবং সেই ঘটনার পুনারাবৃত্তি আমরা চাই না কিন্তু সেই ঘটনার সূচনা হয়ে গেছে।’

 

Share this news as a Photo Card