ময়মনসিংহের নান্দাইলে স্থানীয় সালিশ দরবারে পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসা হওয়ার পরও প্রতিপক্ষের বাড়িতে বর্বর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বীর বেতাগৈর ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
এতে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল কাশেম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে নান্দাইল মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খড়িয়া গ্রামের আবুল কাশেমের কাছ থেকে ধান ও নগদ টাকা বাবদ মোট ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ধার নিয়ে দীর্ঘদিন আগে বিদেশ চলে যান একই গ্রামের হীরা মিয়া। গত বছর দেশে ফিরে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে তিনি আবারও বিদেশে পাড়ি জমান। গত দুই দিন আগে আবুল কাশেম পাওনা টাকার বিষয়ে হীরা মিয়ার বড় ভাই নান্টু মিয়ার কাছে জানতে চাইলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় মাতব্বরেরা এক সালিশ দরবারের আয়োজন করেন এবং সেখানে দু’পক্ষের উপস্থিতিতে একটি সুষ্ঠু মীমাংসা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, সালিশ বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে নান্টু মিয়ার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আবুল কাশেমের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র, আলমারি, সুকেস ও জানালার গ্লাসসহ যাবতীয় জিনিসপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে আবুল কাশেমের মেয়ে লাভলী আক্তারকে মারধর করা হয় এবং তার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ও সুকেসে থাকা ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
সালিশকারী আব্দুর রাজ্জাক এবং প্রতিবেশী পল্লী চিকিৎসক সুকন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম জানান, এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্টাফ রিপোর্টার, নান্দাইল 


















