০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের হামলায় ভারতের সীমান্তবর্তী ১০ হাজারেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস

 

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে টানা কয়েকদিনের গোলাগুলি ও পাল্টা হামলার পর বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চলছে। উভয় দেশের সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখন নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াচ্ছেন।

 

তবে সীমান্ত অঞ্চলে সম্প্রতি সংঘর্ষে যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখন স্পষ্টভাবে সামনে আসছে। পাকিস্তানের হামলায় ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ১০ হাজারেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। পাশাপাশি শত শত গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।

 

ভারতের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর পুঞ্চ, কুপওয়ারা, বারামুলা ও রাজৌরি—এই চার জেলার গ্রামগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে জম্মুর পুঞ্চ জেলার অবস্থা সবচেয়ে করুণ, যেখানে পাকিস্তানি হামলায় ২২ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৪ জনই পুঞ্চের বাসিন্দা।

 

ন্যাশনাল কনফারেন্সের সংসদ সদস্য আজাজ জান জানান, পুঞ্চ জেলার ৯০টি পঞ্চায়েতের মধ্যে অন্তত ৬০টিতে হাজার হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। তার ভাষায়, “এত বড় আকারে হামলা এর আগে কখনো হয়নি। পুরো এলাকা যেন একেবারে বিধ্বস্ত। বাড়িগুলোর কাঠামো এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, সামান্য ভূকম্পনেও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

 

তিনি সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই এখনো নিজ ঘরে ফিরতে পারেননি।

 

উরি ও কারনা সীমান্ত অঞ্চলেও পাকিস্তানি গোলাবর্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কারনায় প্রায় ১০০টি এবং উরিতে অন্তত ৪৫৮টি বাড়ি গুঁড়িয়ে গেছে।

 

ন্যাশনাল কনফারেন্সের আরেক সাংসদ জাভিদ আহমেদ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হওয়া বাড়ির জন্য ১০ লাখ এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

 

এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা মাসির আসলাম ওয়ানিও। তিনি জানান, রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

পদত্যাগ করলেন বিজেপির ‘জাতীয় মুখপাত্র’

ইরানে রাতভর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

30 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

পাকিস্তানের হামলায় ভারতের সীমান্তবর্তী ১০ হাজারেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস

পোষ্টের সময় : ০৯:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫

 

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে টানা কয়েকদিনের গোলাগুলি ও পাল্টা হামলার পর বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চলছে। উভয় দেশের সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখন নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াচ্ছেন।

 

তবে সীমান্ত অঞ্চলে সম্প্রতি সংঘর্ষে যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখন স্পষ্টভাবে সামনে আসছে। পাকিস্তানের হামলায় ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ১০ হাজারেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। পাশাপাশি শত শত গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।

 

ভারতের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর পুঞ্চ, কুপওয়ারা, বারামুলা ও রাজৌরি—এই চার জেলার গ্রামগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে জম্মুর পুঞ্চ জেলার অবস্থা সবচেয়ে করুণ, যেখানে পাকিস্তানি হামলায় ২২ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৪ জনই পুঞ্চের বাসিন্দা।

 

ন্যাশনাল কনফারেন্সের সংসদ সদস্য আজাজ জান জানান, পুঞ্চ জেলার ৯০টি পঞ্চায়েতের মধ্যে অন্তত ৬০টিতে হাজার হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। তার ভাষায়, “এত বড় আকারে হামলা এর আগে কখনো হয়নি। পুরো এলাকা যেন একেবারে বিধ্বস্ত। বাড়িগুলোর কাঠামো এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, সামান্য ভূকম্পনেও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

 

তিনি সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই এখনো নিজ ঘরে ফিরতে পারেননি।

 

উরি ও কারনা সীমান্ত অঞ্চলেও পাকিস্তানি গোলাবর্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কারনায় প্রায় ১০০টি এবং উরিতে অন্তত ৪৫৮টি বাড়ি গুঁড়িয়ে গেছে।

 

ন্যাশনাল কনফারেন্সের আরেক সাংসদ জাভিদ আহমেদ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হওয়া বাড়ির জন্য ১০ লাখ এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

 

এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা মাসির আসলাম ওয়ানিও। তিনি জানান, রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে।

 

Share this news as a Photo Card