পেরুর রাজধানী লিমা পরিণত হয়েছে উত্তপ্ত বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে। সরকারবিরোধী তরুণদের ডাকে আয়োজিত এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে প্রধান সড়কগুলোতে, যেখানে পুলিশের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গতকাল অনুষ্ঠিত এই আন্দোলনে কমপক্ষে ১৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক এবং বিক্ষোভকারী রয়েছেন।
বিক্ষোভকারীরা মূলত ‘জেন-জি’ প্রজন্মের তরুণরা, যাঁরা সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের নানা সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমেছেন। তাঁরা সরকারের প্রতি আস্থা হারানোর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তের নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কংগ্রেসের সদ্য পাস হওয়া একটি আইন এই বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। আইন অনুযায়ী, তরুণদের বাধ্যতামূলকভাবে বেসরকারি পেনশন ফান্ডে যোগ দিতে হবে। কিন্তু দেশে অনিশ্চিত কর্মসংস্থান এবং আর্থিক অস্থিরতার কারণে অনেক তরুণই এটিকে অযৌক্তিক ও চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।
বিক্ষোভ চলাকালে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়েন। এর জবাবে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাংবাদিকরা হলেন কিই-ইনছিটোসা নোতিসিয়াস রেডিওর প্রতিবেদক এবং জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘হিলদেব্রান্ড এন সুস ট্রেস’-এর ফটো সাংবাদিক সিজার জামাল্লোয়া। সাংবাদিকদের ওপর হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অপরাধ দমন ব্যর্থতা এবং জনস্বার্থবিরোধী নীতি প্রণয়নের অভিযোগ আনেন। তাঁদের দাবি, প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তের জনপ্রিয়তা দ্রুত কমে যাচ্ছে, তবুও প্রশাসন সাধারণ মানুষের সমস্যাকে উপেক্ষা করছে। এছাড়া দেশে চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ বাড়তে থাকায় নিরাপত্তাহীনতা আরও গভীর হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আন্দোলন শুধু পেনশন আইন নয়, বরং সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতার প্রতি জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। যদি সরকার দ্রুত সমাধান খুঁজে না পায়, তবে আন্দোলন আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


























