উত্তর বাংলাদেশে বন্যহাতি ও মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসন, স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা রক্ষা এবং হাতি তাড়ানোর কার্যকর কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে ময়মনসিংহে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৫ জুন, ২০২৬ তারিখে কারিতাস ময়মনসিংহ অঞ্চলের মিলনায়তনে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
প্রকল্প এলাকাটির একটি বড় অংশ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে বন্যহাতির বিচরণ ও উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে স্থানীয় জনগণের জীবন, জীবিকা, কৃষিজমি এবং সম্পদের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে মানুষ ও হাতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা, দ্বন্দ্ব হ্রাস, কমিউনিটি-ভিত্তিক ফসল ও সম্পদ সুরক্ষা এবং হাতি তাড়ানোর আধুনিক কৌশল বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কারিতাস ময়মনসিংহ অঞ্চল এবং স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি (সাস) যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটিতে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছে মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটি (এমসিসি) বাংলাদেশ।
কর্মশালাটিতে সভাপতিত্ব করেন কারিতাস ময়মনসিংহ অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক মিস রোজী রংমা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জনাব কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির (সাস) নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার পাল, মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটির (এমসিসি) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মিস্টার গ্রেগরি ভ্যান্ডারবল্ট, এমসিসির খাদ্য নিরাপত্তা সমন্বয়কারী ড. আরিফুর রহমান এবং প্রোগ্রাম অফিসার জনাব কামাল হোসেন। সমগ্র কর্মশালাটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকায়ন প্রকল্পের ফোকাল পারসন মিস্টার দুলেন আরেং।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন তাঁর বক্তব্যে ভারতের বন্যহাতি কত সালে এবং কী কারণে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে, তার একটি ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরেন। একই সাথে বর্তমানে বন্যহাতিগুলো কীভাবে মানুষের ফসলাদি ও সম্পদের ক্ষতি করছে এবং মানুষ ও হাতির যৌথভাবে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের করণীয় কী, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জনাব কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, “আমরা যদি বন্যহাতিদের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা বা বিরক্তি সৃষ্টি না করি, তবে তারাও মানুষের কোনো ক্ষতি করবে না।” এর পাশাপাশি হাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের আর্থিক প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে, তিনি তা উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ভুক্তভোগী এবং ওই এলাকায় কর্মরত প্রকল্পের মাঠকর্মীরা অংশ নেন। তাঁরা মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা, ক্ষয়ক্ষতি এবং উদ্ভূত নানাবিধ চ্যালেঞ্জের কথা সবার সামনে তুলে ধরেন।
কর্মশালার শেষ অংশে একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে হাতি সংরক্ষণ এবং সুরক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। মাঠপর্যায়ে গিয়ে কীভাবে আক্রান্ত এলাকার মানুষকে আরও বেশি সচেতন করা যায় এবং মানুষ ও বন্যহাতি কীভাবে পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করতে পারে, সেই কৌশলের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়।
সবশেষে, সভাপতি মিস রোজী রংমা উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং কর্মশালাটিকে যুগোপযোগী ও প্রাণবন্ত করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

স্টাফ রিপোর্টার 





















