সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত ও আসবাবপত্র সরবরাহের বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ, উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সঙ্গে যোগসাজশে অনিয়ম, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূত ব্যবস্থা গ্রহণসহ নানা অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেহার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের তদন্তে আগামী ২ সেপ্টেম্বর নান্দাইল উপজেলা শিক্ষা অফিসে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন-১ শাখা থেকে গত ২৪ আগস্ট জারি করা এক চিঠিতে এসব অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত ও আসবাবপত্র সরবরাহের বরাদ্দ এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিল থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিভিন্ন অনিয়ম, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষকদের সাময়িক সংযুক্তির প্রস্তাব পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। শিক্ষকদের ছুটি ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়েও নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কক্ষে বিধিবহির্ভূতভাবে এসি স্থাপনের অভিযোগও আনা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মস্থলে নিয়মিত অবস্থান না করে ময়মনসিংহ শহরে বসবাসের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তবে অভিযোগপত্রে অভিযোগকারী হিসেবে নান্দাইল উপজেলার নগর কচুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুন্নাহারের নাম থাকলেও তিনি অভিযোগ করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
প্রধান শিক্ষক আজিজুন্নাহার বলেন, “আমি কোনো অভিযোগ করিনি। কে বা কারা আমার ঠিকানা ব্যবহার করে অভিযোগ করেছে, তা আমি জানি না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত অভিযোগকারীকে শনাক্ত করার পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেহা বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। তবে অভিযোগকারী হিসেবে নগর কচুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুন্নাহারের নাম ও মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে। তিনি আমার কার্যালয়ে এসে জানিয়েছেন, তিনি এ অভিযোগ করেননি। অন্য কেউ তাঁর নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অভিযোগটি করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।”
তাঁর কক্ষে এসি স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে ফজিলাতুন নেহা বলেন, “উপজেলা প্রকৌশলী এস্টিমেট করে এসি লাগিয়েছেন।” তবে সরকারি অফিসে এভাবে এসি স্থাপনের অনুমোদন বা বিধিগত বৈধতা রয়েছে কি না—এ বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।
অন্যদিকে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগের বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। তবে আমাদের দপ্তর থেকে বিলগুলো বিধি-বিধান অনুসরণ করেই করা হয়।”
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠিতে অভিযোগগুলোর তদন্তের জন্য সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) মজিব আলমকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় নান্দাইল উপজেলা শিক্ষা অফিসে তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য ও প্রমাণাদিসহ যথাসময়ে উপস্থিত থেকে তদন্ত কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার (নান্দাইল) 



















