চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিয়ে উপলক্ষে আয়োজন করা এক সামাজিক বৈঠকে তুচ্ছ কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের নাজিরহাট এলাকার মুছা সওদাগর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন মো. রবিউল ইসলাম (৪০), যিনি জহুরুল হকের বড় ছেলে ও স্থানীয় নাজিরহাট ঘাট স্টেশনে একটি ছোট ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই ইমরুল হোসেন (৩৫) এবং চাচাতো ভাই ইমন (২১) আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, খুব শিগগিরই রবিউলের এক প্রতিবেশীর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের প্রস্তুতি, খরচ ও আয়োজন নিয়ে এলাকার মানুষের মতামত জানতে ‘পানসল্লা’ নামে পরিচিত এক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে রবিউলের দূর সম্পর্কের আত্মীয় মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন (৪৮) উপস্থিত ছিলেন, যাঁর সঙ্গে রবিউলের দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছিল।
পুলিশ জানায়, বিয়ের আলোচনা চলাকালীন পুরোনো জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ফের উত্থাপিত হয়। এ নিয়েই রবিউল ও জসিম উদ্দিনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। উত্তেজনা বাড়লে জসিম হঠাৎ ছুরি নিয়ে রবিউলের ওপর হামলা করেন। রবিউলকে বাঁচাতে গেলে তাঁর ভাই ইমরুল ও ইমনকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনার পর উত্তেজিত স্থানীয়রা অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনকে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
হাটহাজারী পুলিশ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে তর্ক-বিতর্ক থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। গ্রেপ্তার জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 




















