ভারতে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং তথ্য পাচারের অভিযোগে ৯ জনকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। পেহেলগামে হামলার পর এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন—জ্যোতি মালহোত্রা, দেবেন্দ্র সিং, নোমান ইলাহি, আরমান, তারিফ, শাহজাদ, মুহম্মদ আলী মুর্তজা, গাজালা মাহমুদ ও ইয়ামিন মাহমুদ।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৫ জন হরিয়ানা, ৩ জন পাঞ্জাব এবং ১ জন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে কেউ ট্রাভেল ভ্লগার, কেউ শিক্ষার্থী, আবার কেউ নৈশ প্রহরী বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
ট্রাভেল ভ্লগার জ্যোতি মালহোত্রার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পাকিস্তান হাইকমিশনের এক কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং সামরিক বাহিনীর তথ্য হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করতেন।
দেবেন্দ্র সিং পাঞ্জাবের পাতিয়ালা জেলার খালসা কলেজের শিক্ষার্থী। তার বিরুদ্ধে আইএসআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ও সেনানিবাসের ছবি পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
নৈশ প্রহরী নোমান ইলাহির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আইএসআই থেকে নিয়মিত অর্থ আসত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, বাকি ছয়জনের সঙ্গেও পাকিস্তানের হাইকমিশন বা আইএসআইয়ের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মিরের পেহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। হামলার দায় স্বীকার করে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)’। এটি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বার একটি শাখা।
ঘটনার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয় এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে সামরিক অভিযান চালায়, যাতে পাকিস্তানে ৫১ জন নিহত হন। এর জবাবে পাকিস্তান চালায় ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’। এতে ২১ ভারতীয় নিহত হন। চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ মে থেকে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।


























