০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদনে জাল দলিলে নামজারির অভিযোগ, দুদকে তদন্তের আবেদন

 

নেত্রকোনার মদনে ভুয়া ও জাল দলিল ব্যবহার করে জমির নামজারি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিতর্কিত নামজারি বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলার পদারকোনা এলাকার বাসিন্দা দ্বীন ইসলাম।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দেওয়া লিখিত আবেদনে তিনি এ অভিযোগ করেন। আবেদনের অনুলিপি নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক, জেলা রেজিস্ট্রার, মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়, মদন উপজেলার পদারকোনা মৌজার বি.আর.এস ২১০ নম্বর খতিয়ানের ১২৭০ নম্বর দাগে ৪৭ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিক গোলাম আলী খাঁ ও করিমন্নেছা। ওই জমি তৌহিদুল ইসলামের নামে নামজারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দ্বীন ইসলাম।

 

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ ৩০৪৪ (ওঢ-ও) ২০২৪-২৫ নম্বর নামজারি জমা-খারিজ মামলার মাধ্যমে ২৫-৬৩৯ নম্বর নামজারি মঞ্জুর করা হয়। এর ভিত্তি হিসেবে ১৯৮৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির ৩১৭ নম্বর এবং ১৯৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির ১৭৮ নম্বর দলিলের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে মদন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বালাম বইয়ের তথ্যের সঙ্গে নামজারির জন্য উপস্থাপিত দলিলের তথ্যের মিল নেই বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে পদারকোনা মৌজার বি.আর.এস ৩৭৭ নম্বর খতিয়ানের ১১৬৬, ১১৬৭, ১১৬৮, ১২২৯ ও ১২৭০ নম্বর দাগের মোট ২ একর ৪৪ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিক যতীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, নগেন্দ্র ভট্টাচার্য ও নিপেন্দ্র ভট্টাচার্য। তাঁদের কাছ থেকে জমি হস্তান্তরের কোনো তথ্য নেই দাবি করে অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই জমি নিয়ে ৪৯৯/১৫-০২-৮৬ নম্বর একটি দলিল তৈরি করে নামজারির আবেদন করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় দলিল লেখক রহিছ মিয়াসহ তৌহিদুল ইসলাম, ফৌজদার মিয়া, কিশোর মিয়া ও জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জাল দলিল তৈরির অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তাঁরা সবাই মদনের নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তাঁদের বাবার নাম ইউনুছ আলী।

 

অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন মাঘান ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মির্জা মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কানুনগো, সার্ভেয়ার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কর্মকর্তারা মূল দলিল ও রেকর্ড যথাযথভাবে যাচাই না করেই নামজারির প্রস্তাব ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল ৩০৫৪ (ওঢ-ও) ২০২৪-২৫ নম্বর নামজারি জমা-খারিজ মামলায় ২৫-৬৪৩ নম্বর নামজারি সৃজন করা হয়।

 

এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা এবং বিতর্কিত নামজারি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন দ্বীন ইসলাম।

 

অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক রহিছ মিয়া বলেন, গত মাসেও তাঁর একটি দলিল সাব-রেজিস্ট্রার আটকে দেন। পরে কাগজপত্র যাচাই করে জাল কাগজ পাওয়া গেলে দলিলদাতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁকে শোকজ করা হলে গত সপ্তাহে তিনি জবাব দিয়েছেন।

 

অভিযোগে নামজারি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মির্জা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার কথা জানিয়ে পরে ফোনটি বন্ধ করে দেন।

 

নামজারি করার সময় মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে থাকা অহনা জিন্নাত বর্তমানে কক্সবাজারে কর্মরত। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি অনেক আগের। আমার মনে পড়ছে না। যদি কোনো নামজারির কাগজপত্র আদালতে ভুয়া প্রমাণিত হয়, তাহলে আবেদন করলেই তা বাতিল হয়ে যাবে।’

 

মদন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকা মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘দলিল লেখক রহিছ মিয়া দাখিল করলে কাগজপত্রে অসংগতি মনে হওয়ায় দলিলটি আটকে দেওয়া হয়। পরে যাচাই করে জাল কাগজপত্র মনে হলে দলিল লেখককে শোকজ করা হয়। তিনি শোকজের জবাব দিয়েছেন। বর্তমানে বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে রয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ তিনি নেবেন।’

 

নেত্রকোনা জেলা রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজ আহমেদ বলেন, ‘জাল কাগজপত্র দিয়ে নামজারি করিয়ে দলিল করার সময় সাব-রেজিস্ট্রার তা আটকে দিয়েছেন। দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে শোকজ করার পর তিনি জবাব দিয়েছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ময়মনসিংহে 'প্রযুক্তি গ্রাম' পরিদর্শনে এমরান সালেহ প্রিন্স

18 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

মদনে জাল দলিলে নামজারির অভিযোগ, দুদকে তদন্তের আবেদন

পোষ্টের সময় : ০৭:০৮:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

 

নেত্রকোনার মদনে ভুয়া ও জাল দলিল ব্যবহার করে জমির নামজারি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিতর্কিত নামজারি বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলার পদারকোনা এলাকার বাসিন্দা দ্বীন ইসলাম।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দেওয়া লিখিত আবেদনে তিনি এ অভিযোগ করেন। আবেদনের অনুলিপি নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক, জেলা রেজিস্ট্রার, মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়, মদন উপজেলার পদারকোনা মৌজার বি.আর.এস ২১০ নম্বর খতিয়ানের ১২৭০ নম্বর দাগে ৪৭ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিক গোলাম আলী খাঁ ও করিমন্নেছা। ওই জমি তৌহিদুল ইসলামের নামে নামজারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দ্বীন ইসলাম।

 

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ ৩০৪৪ (ওঢ-ও) ২০২৪-২৫ নম্বর নামজারি জমা-খারিজ মামলার মাধ্যমে ২৫-৬৩৯ নম্বর নামজারি মঞ্জুর করা হয়। এর ভিত্তি হিসেবে ১৯৮৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির ৩১৭ নম্বর এবং ১৯৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির ১৭৮ নম্বর দলিলের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে মদন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বালাম বইয়ের তথ্যের সঙ্গে নামজারির জন্য উপস্থাপিত দলিলের তথ্যের মিল নেই বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে পদারকোনা মৌজার বি.আর.এস ৩৭৭ নম্বর খতিয়ানের ১১৬৬, ১১৬৭, ১১৬৮, ১২২৯ ও ১২৭০ নম্বর দাগের মোট ২ একর ৪৪ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিক যতীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, নগেন্দ্র ভট্টাচার্য ও নিপেন্দ্র ভট্টাচার্য। তাঁদের কাছ থেকে জমি হস্তান্তরের কোনো তথ্য নেই দাবি করে অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই জমি নিয়ে ৪৯৯/১৫-০২-৮৬ নম্বর একটি দলিল তৈরি করে নামজারির আবেদন করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় দলিল লেখক রহিছ মিয়াসহ তৌহিদুল ইসলাম, ফৌজদার মিয়া, কিশোর মিয়া ও জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জাল দলিল তৈরির অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তাঁরা সবাই মদনের নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তাঁদের বাবার নাম ইউনুছ আলী।

 

অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন মাঘান ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মির্জা মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কানুনগো, সার্ভেয়ার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কর্মকর্তারা মূল দলিল ও রেকর্ড যথাযথভাবে যাচাই না করেই নামজারির প্রস্তাব ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল ৩০৫৪ (ওঢ-ও) ২০২৪-২৫ নম্বর নামজারি জমা-খারিজ মামলায় ২৫-৬৪৩ নম্বর নামজারি সৃজন করা হয়।

 

এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা এবং বিতর্কিত নামজারি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন দ্বীন ইসলাম।

 

অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক রহিছ মিয়া বলেন, গত মাসেও তাঁর একটি দলিল সাব-রেজিস্ট্রার আটকে দেন। পরে কাগজপত্র যাচাই করে জাল কাগজ পাওয়া গেলে দলিলদাতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁকে শোকজ করা হলে গত সপ্তাহে তিনি জবাব দিয়েছেন।

 

অভিযোগে নামজারি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মির্জা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার কথা জানিয়ে পরে ফোনটি বন্ধ করে দেন।

 

নামজারি করার সময় মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে থাকা অহনা জিন্নাত বর্তমানে কক্সবাজারে কর্মরত। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি অনেক আগের। আমার মনে পড়ছে না। যদি কোনো নামজারির কাগজপত্র আদালতে ভুয়া প্রমাণিত হয়, তাহলে আবেদন করলেই তা বাতিল হয়ে যাবে।’

 

মদন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকা মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘দলিল লেখক রহিছ মিয়া দাখিল করলে কাগজপত্রে অসংগতি মনে হওয়ায় দলিলটি আটকে দেওয়া হয়। পরে যাচাই করে জাল কাগজপত্র মনে হলে দলিল লেখককে শোকজ করা হয়। তিনি শোকজের জবাব দিয়েছেন। বর্তমানে বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে রয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ তিনি নেবেন।’

 

নেত্রকোনা জেলা রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজ আহমেদ বলেন, ‘জাল কাগজপত্র দিয়ে নামজারি করিয়ে দলিল করার সময় সাব-রেজিস্ট্রার তা আটকে দিয়েছেন। দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে শোকজ করার পর তিনি জবাব দিয়েছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

Share this news as a Photo Card