০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধুপুরের লাল মাটির শালবন বাঁচাতে তরুন প্রজন্মের পরিবেশবাদী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের মানব বন্ধন 

 

দেশের তৃতীয় বৃহত্তর মধুপুর শালবন। ফকির সন্যাসী আন্দোলনের সূতিকাগাঁর এ বন মুক্তিযোদ্ধর স্মৃতিবিজড়িত। সমতল অঞ্চলের এ বন সারা দেশেই ছিল সুনাম। ইতিহাস ঐতিহ্যের অনন্য এ বন ধ্বংস আর জবর দখলের কারণে হারিয়ে ফেলেছে তার আয়তন। হারিয়ে গেছে অনেক গাছপালা।পশুপাখি বিরল প্রজাতির নানা পাখপাখালি। গজারি হারিয়ে এখন সামাজিক বনায়নের ফলে প্রাকৃতিক অবয়ব দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। প্রায় ৪৫ হাজার একরের এ বন এখন দখল চাষাবাদ বৃক্ষ নিধন আনারস কলা চাষের কারণে কমতে কমতে ১০ হাজার একরে এসে ঠেকেছে।

বনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে নানা প্রকল্প হাতে নিলেও বাড়েনি বনের আয়তন। জবর দখল রোধ করা যায়নি। বরং দিন দিন ধ্বংস লীলা যেন চলতেই আছে।মধুপুর বনের দোখলা রেঞ্জের মাগিচূড়া এলাকায় সম্প্রতি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। গাছ পালা কেটে সাবাড় করে করা হচ্ছে আনারস কলার বাগান। মাগিচূড়া যেন ধ্বংসকারিদের মবের শিকার। যার যার মতো বনে কেটে আবাদি জমি বানাতে ব্যস্ত বনের ভূমি খেকোরা। যার ফলে মধুপুর বন ধ্বংসাত্মকদের আক্রোকের শিকার। বন জমিতে বানানো হচ্ছে আনারস কলার বাগান। এ সব তথ্য বন এলাকার মানুষদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। তবে বন বিভাগ বলছে, মধুপুর বনের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে নানা কার্যক্রম চলছে, শালসহ বিভিন্ন দেশী লাল মাটির সাথে পরিবেশ সম্মত গাছ রোপন করা হবে। মুয়ুর,কচ্ছপ অবমুক্ত করা হয়েছে। বন বিভাগের আশা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহযোগিতায় বনের ঐতিহ্য ফিরে পাবে।

আর মধুপুর বন বাঁচাতে ১৯ এপ্রিল বেলা ১১ টায় পাহাড়িয়া এলাকার শোলাকুড়ি নতুন প্রজন্মের সচেতন নাগরিক ব্যানারে মানব বন্ধনের আয়োজন করে। শোলাকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষরা মানব বন্ধন করতে হাত হাত ধরে রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে যায়। শ্লোগান তোলে শালবন বাঁচানোর। তারা তোলে ধরেন মধুপুর বনের হাজার বছরের অতীত ঐতিহ্য। ভেষজ বৃক্ষ, শাল গজারি,পশুপাখি, বন্যপ্রাণী,বানর, হনুমানসহ গাছ পশুপাখির দুর্দশার ভয়াবহ চিত্র তোলে ধরেন। তোলে ধরেন বনের জমি আনারস কলা চাষের ভয়াবহ করুন পরিনীতির চিত্র।তারা মধুপুর বনকে বাঁচানোর আহবান জানান।এগিয়ে আনতে বলেন সচেতন নাগরিকদের। বন প্রকৃতিপ্রেমীদের সোচ্চার হবার ডাক দেন। তাদের দাবি বন ধ্বংসের হাতে মধুপুর শারবনকে বাঁচানো।

 

লাল মাটির শালবন বাঁচাতে তরুন প্রজন্মের মানব বন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কবি নজরুল বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী কবি রাতুল মুন্সী।

 

এ সময় বক্তব্য রাখেন মানববন্ধন কর্মসূচির সমন্বয়ক সাংবাদিক জোবায়ের আহসান,শোলাকুড়ী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক বকুল হোসেন, শোলাকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকাদ্দস আলী,সহকারী প্রধান শিক্ষক সোহেল আরমান,অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শামসুল হক প্রমূখ।

শালবন রক্ষা ও ধ্বংসের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন সর্বস্তরের মানুষ, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে।

আয়োজকরা জানান,সবাই সমিতির প্রচেষ্টা, সম্মিলিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতার মাধ্যমে তাদের স্বপ্ন শালবন রক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চায়। কারণ এই শালবন শুধু একটি বন নয়, এটি তাদের ঐতিহ্য, তাদের মধুপুরের পরিচয়, টাঙ্গাইলের গর্ব। তারা বলেন,বন রক্ষার লড়াই একটি দিনের নয় এটি তাদের অস্তিত্ব, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ রক্ষার সংগ্রাম।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

মাহেন্দ্র গাড়িতে মদের চালান, শ্যামগঞ্জে আটক ১

08 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

মধুপুরের লাল মাটির শালবন বাঁচাতে তরুন প্রজন্মের পরিবেশবাদী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের মানব বন্ধন 

পোষ্টের সময় : ০৮:০৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

 

দেশের তৃতীয় বৃহত্তর মধুপুর শালবন। ফকির সন্যাসী আন্দোলনের সূতিকাগাঁর এ বন মুক্তিযোদ্ধর স্মৃতিবিজড়িত। সমতল অঞ্চলের এ বন সারা দেশেই ছিল সুনাম। ইতিহাস ঐতিহ্যের অনন্য এ বন ধ্বংস আর জবর দখলের কারণে হারিয়ে ফেলেছে তার আয়তন। হারিয়ে গেছে অনেক গাছপালা।পশুপাখি বিরল প্রজাতির নানা পাখপাখালি। গজারি হারিয়ে এখন সামাজিক বনায়নের ফলে প্রাকৃতিক অবয়ব দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। প্রায় ৪৫ হাজার একরের এ বন এখন দখল চাষাবাদ বৃক্ষ নিধন আনারস কলা চাষের কারণে কমতে কমতে ১০ হাজার একরে এসে ঠেকেছে।

বনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে নানা প্রকল্প হাতে নিলেও বাড়েনি বনের আয়তন। জবর দখল রোধ করা যায়নি। বরং দিন দিন ধ্বংস লীলা যেন চলতেই আছে।মধুপুর বনের দোখলা রেঞ্জের মাগিচূড়া এলাকায় সম্প্রতি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। গাছ পালা কেটে সাবাড় করে করা হচ্ছে আনারস কলার বাগান। মাগিচূড়া যেন ধ্বংসকারিদের মবের শিকার। যার যার মতো বনে কেটে আবাদি জমি বানাতে ব্যস্ত বনের ভূমি খেকোরা। যার ফলে মধুপুর বন ধ্বংসাত্মকদের আক্রোকের শিকার। বন জমিতে বানানো হচ্ছে আনারস কলার বাগান। এ সব তথ্য বন এলাকার মানুষদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। তবে বন বিভাগ বলছে, মধুপুর বনের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে নানা কার্যক্রম চলছে, শালসহ বিভিন্ন দেশী লাল মাটির সাথে পরিবেশ সম্মত গাছ রোপন করা হবে। মুয়ুর,কচ্ছপ অবমুক্ত করা হয়েছে। বন বিভাগের আশা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহযোগিতায় বনের ঐতিহ্য ফিরে পাবে।

আর মধুপুর বন বাঁচাতে ১৯ এপ্রিল বেলা ১১ টায় পাহাড়িয়া এলাকার শোলাকুড়ি নতুন প্রজন্মের সচেতন নাগরিক ব্যানারে মানব বন্ধনের আয়োজন করে। শোলাকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষরা মানব বন্ধন করতে হাত হাত ধরে রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে যায়। শ্লোগান তোলে শালবন বাঁচানোর। তারা তোলে ধরেন মধুপুর বনের হাজার বছরের অতীত ঐতিহ্য। ভেষজ বৃক্ষ, শাল গজারি,পশুপাখি, বন্যপ্রাণী,বানর, হনুমানসহ গাছ পশুপাখির দুর্দশার ভয়াবহ চিত্র তোলে ধরেন। তোলে ধরেন বনের জমি আনারস কলা চাষের ভয়াবহ করুন পরিনীতির চিত্র।তারা মধুপুর বনকে বাঁচানোর আহবান জানান।এগিয়ে আনতে বলেন সচেতন নাগরিকদের। বন প্রকৃতিপ্রেমীদের সোচ্চার হবার ডাক দেন। তাদের দাবি বন ধ্বংসের হাতে মধুপুর শারবনকে বাঁচানো।

 

লাল মাটির শালবন বাঁচাতে তরুন প্রজন্মের মানব বন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কবি নজরুল বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী কবি রাতুল মুন্সী।

 

এ সময় বক্তব্য রাখেন মানববন্ধন কর্মসূচির সমন্বয়ক সাংবাদিক জোবায়ের আহসান,শোলাকুড়ী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক বকুল হোসেন, শোলাকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকাদ্দস আলী,সহকারী প্রধান শিক্ষক সোহেল আরমান,অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শামসুল হক প্রমূখ।

শালবন রক্ষা ও ধ্বংসের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন সর্বস্তরের মানুষ, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে।

আয়োজকরা জানান,সবাই সমিতির প্রচেষ্টা, সম্মিলিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতার মাধ্যমে তাদের স্বপ্ন শালবন রক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চায়। কারণ এই শালবন শুধু একটি বন নয়, এটি তাদের ঐতিহ্য, তাদের মধুপুরের পরিচয়, টাঙ্গাইলের গর্ব। তারা বলেন,বন রক্ষার লড়াই একটি দিনের নয় এটি তাদের অস্তিত্ব, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ রক্ষার সংগ্রাম।

 

Share this news as a Photo Card