যশোরের যশ, খেজুরের রস”— প্রবাদটি যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে শীতের শুরুতেই। শীতের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়তেই যশোরের বাঘারপাড়ার গাছিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খেজুরের রস আহরণের প্রস্তুতিতে। কোমরে দড়ি বেঁধে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা উঠে পড়ছেন খেজুর গাছে, ধারালো দা দিয়ে চলছে গাছের যত্ন ও ‘চাঁচ’ দেওয়ার কাজ।
দোহাকুলা, মহিরন, লক্ষীপুর, নারিকেলবাড়ীয়া ও খাজুরা অঞ্চলে ইতোমধ্যে গাছিদের ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। গাছ চাঁচা শেষে প্রায় দুই সপ্তাহ পর বাঁশের নলি বসিয়ে মাটির ভাঁড় ঝুলিয়ে রস সংগ্রহ শুরু হবে। নভেম্বর থেকেই এই অঞ্চলে শুরু হয় রস আহরণের মৌসুম, যা চলে শীতের পুরো সময়জুড়ে।
শীত যত গভীর হয়, রসের মিষ্টতাও তত বেড়ে যায়। এক ভাঁড় কাঁচা রস কিংবা তা দিয়ে তৈরি গুড়, পাটালি, পিঠা-পুলি, পায়েস— এসবই হয়ে ওঠে গ্রামীণ জীবনের অপরিহার্য অংশ। বাঘারপাড়ার খাজুরা এলাকার পাটালি গুড়ের খ্যাতি সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। অনেক গাছি ও কৃষক এই চার মাসের মৌসুমে রস ও গুড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
তবে এই ঐতিহ্য এখন নানা সংকটে। পরিবেশ দূষণ, ইটভাটার ধোঁয়া, রাস্তা নির্মাণ আর অব্যাহত গাছ নিধনের কারণে খেজুর গাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। একইসঙ্গে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়ায় গাছি পেশাটিও টিকে থাকার লড়াইয়ে। একসময় যেখানে বাঘারপাড়ায় ছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ খেজুর গাছ, বর্তমানে রস সংগ্রহ হয় মাত্র ৪৫ হাজার গাছ থেকে।
গাছিরা জানান, কঠোর পরিশ্রমের তুলনায় ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেকেই পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। তবুও শীত এলে তারা আবারও প্রাণের টানে ফিরে আসেন গাছের কাছে। প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন করে খেজুর গাছের চারা রোপণ ও গাছিদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে— যা এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার আশাবাদ জাগাচ্ছে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















