১২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে ৯০ বিঘা জমি চাষের কৃষি উপকরণ বিতরণ

 

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন ময়মনসিংহের উদ্যোগে তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। নতুন ০৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চলমান বোরো ২০২৫–২৬ মৌসুমের প্রায়োগিক পরীক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৩০ জন কৃষকের মধ্যে ৩০ একর জমি চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হয়।

 

শনিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের প্রস্তাবিত প্রযুক্তি গ্রাম ‘চকনজু’-তে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

 

আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন ময়মনসিংহের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হুর-ই-ফেরদৌসী তাজিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনোয়ার হোসেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, এলাকার সাধারণ কৃষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বিতরণকৃত কৃষি উপকরণের মধ্যে ছিল ইউরিয়া, এমওপি, ডিএপি, জিপসাম, জিংক সালফেট, কীটনাশক, ছত্রাকনাশক এবং সাইনবোর্ড।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. আনোয়ার হোসেন বোরো মৌসুমে তীব্র শৈত্যপ্রবাহজনিত কারণে ধানের চারার অতিরিক্ত যত্ন নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি চারার সঠিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেন। এ মৌসুমে ব্রি ধান ৮৪, ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান৯২, ব্রি ধান১০০, ব্রি ধান১০৪, ব্রি ধান১০৫, ব্রি ধান১০৮, ব্রি হাইব্রিড ধান৩, ব্রি হাইব্রিড ধান ৫ সহ মোট ১০টি আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল ধানের জাতের বীজ রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান চাষের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং এর সুফল সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করেন।

 

এছাড়া এলএসটিডি প্রকল্পের উদ্যোগে এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি জমিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে আমন মৌসুম শেষে পতিত জমিতে সরিষা চাষের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষক পর্যায়ে মানসম্মত বীজ সংরক্ষণ নিয়েও তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময় ও সুপারিশকৃত পদ্ধতি অনুযায়ী পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা উল্লেখযোগ্যভাবে অধিক ফলন পাবে।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকরা এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও কৃষকদের সহায়তায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

সন্তান নিতে ওপেনএআইয়ের সাবেক উপদেষ্টাকে শুক্রাণু দিয়েছিলেন মাস্ক

ঘুষের দায়ে চীনের সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

07 May 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ময়মনসিংহে এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে ৯০ বিঘা জমি চাষের কৃষি উপকরণ বিতরণ

পোষ্টের সময় : ০৭:২৮:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

 

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন ময়মনসিংহের উদ্যোগে তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। নতুন ০৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চলমান বোরো ২০২৫–২৬ মৌসুমের প্রায়োগিক পরীক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৩০ জন কৃষকের মধ্যে ৩০ একর জমি চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হয়।

 

শনিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের প্রস্তাবিত প্রযুক্তি গ্রাম ‘চকনজু’-তে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

 

আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন ময়মনসিংহের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হুর-ই-ফেরদৌসী তাজিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনোয়ার হোসেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, এলাকার সাধারণ কৃষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বিতরণকৃত কৃষি উপকরণের মধ্যে ছিল ইউরিয়া, এমওপি, ডিএপি, জিপসাম, জিংক সালফেট, কীটনাশক, ছত্রাকনাশক এবং সাইনবোর্ড।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. আনোয়ার হোসেন বোরো মৌসুমে তীব্র শৈত্যপ্রবাহজনিত কারণে ধানের চারার অতিরিক্ত যত্ন নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি চারার সঠিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেন। এ মৌসুমে ব্রি ধান ৮৪, ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান৯২, ব্রি ধান১০০, ব্রি ধান১০৪, ব্রি ধান১০৫, ব্রি ধান১০৮, ব্রি হাইব্রিড ধান৩, ব্রি হাইব্রিড ধান ৫ সহ মোট ১০টি আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল ধানের জাতের বীজ রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান চাষের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং এর সুফল সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করেন।

 

এছাড়া এলএসটিডি প্রকল্পের উদ্যোগে এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি জমিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে আমন মৌসুম শেষে পতিত জমিতে সরিষা চাষের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষক পর্যায়ে মানসম্মত বীজ সংরক্ষণ নিয়েও তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময় ও সুপারিশকৃত পদ্ধতি অনুযায়ী পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা উল্লেখযোগ্যভাবে অধিক ফলন পাবে।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকরা এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও কৃষকদের সহায়তায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

 

Share this news as a Photo Card