ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক, হালুয়াঘাট উপজেলা মহিলাদলের সভানেত্রী ও উপজেলা বিএনপির সদস্য হোসনে আরা বেগম (নীলু)। রোববার (১২ এপ্রিল) তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গতকাল শনিবার নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে গত প্রায় ১৭ বছরে তিনি একাধিক বিভিন্ন হয়রানির শিকার ও বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করেছেন।
উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকারাজনৈতিক সংগ্রামের পাশাপাশি তিনি হালুয়াঘাট উপজেলার উন্নয়নে এবং গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
এলাকাবাসীদের মতে, তার এই ধারাবাহিক কাজ তাকে একজন জনবান্ধব নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
হোসনে আরা বেগম নীলু বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির জন্য নির্ধারিত ৩৬টি আসনের লক্ষ্যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তখন খাল খনন কর্মসূচীতে আমাদের গৌরীপুর থানায় আসছিলেন ,আমি তখন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ি। তখন থেকেই উনার ন্যায়-নীতি, আদর্শের প্রতি মুগ্ধ হয়ে আমি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে অন্তর থেকে ভালোবাসি। পরবর্তীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির করুণ মৃত্যুতে আমি ব্যথিত ও আহত হই। মৃত্যুর দিনটি আমার আজও মানসপটে ভেসে ওঠে, সারা বাংলাদেশের মানুষ যেন কাঁদছিল। আকাশটা ছিল মেঘাচ্ছন্ন মানুষ নীরব নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই থেকে আমার আজও ধ্যানে, জ্ঞানে ও রক্তে মিশে আছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী (বিএনপি) পরিবার।
১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আমি বার বার পুলিশী নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমার প্রাণপ্রিয় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম, সমাবেশ, মহা-সমাবেশে ঢাকায় অবস্থান করে আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। আমি ময়মনসিংহ উত্তর জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেয়ার পর ৭টি উপজেলার মধ্যে ৬টি উপজেলায় মহিলা কর্মী সমাবেশ করে ৪টি উপজেলায় কমিটি দিয়েছি।
তিনি বলেন,২৮শে অক্টোবর ২০২৩ সালে ঢাকায় মহা সমাবেশে প্রতিটি উপজেলা থেকে মহিলা নেত্রীদের সাথে নিয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহন সময় পরিস্থিতি যখন ভয়াবহ রূপ নেয় তখন একটি চশমার দোকানে ৭জন মহিলা নিয়ে ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকি। পরবর্তীতে দোকানের মালিক আমাদেরকে জোর করে বের করে দেয় এমতাবস্থায় বের হয়ে দেখি যুদ্ধের ময়দান, তখন চারদিক থেকে পুলিশ আমাদেরকে ধাওয়া দিতে থাকে। আমরা কোনকিছু না বলে,কোনমতে প্রাণ নিয়ে দ্রুত পায়ে হেটে নয়াপল্টন থেকে মহাখালী এনে হালুয়াঘাটের বাসে উঠি।
৪ আগষ্ট, ২০২৪ ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ১ দফা আন্দোলনে আমি যখন বাসা থেকে বের হই, তখন আমার স্বামী হার্টের রোগী (৮০ বছর বয়স) আমাকে আন্দোলনে যেতে বাধা দেয়। আমি তাকে ঐ মুহূর্তে বুঝিয়ে ও অনুরোধ করে ঘর থেকে বের হয়ে যাই। তখন আমি আমার জীবনের চিন্তা এবং স্বামী ও পরিবারের চিন্তা না করে এমতাবস্থায় ছাত্র/ছাত্রীদের সাথে নিয়ে সকাল ১১.০০ ঘটিকায় ধারা ইউনিয়নে আন্দোলন ও মিছিল করি।
১৯৮৫ সালে আমি গ্রামের মহিলাদেরকে নিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় ১৯ হাত একটি দোচালা ঘর করি এখানে প্রতিদিন সকালে এলাকার ছোট ছোট ছেলে/মেয়েদের নিয়ে মক্তব/আরবী পড়াশুনা এবং বিকেলে এলাকার মহিলাদের নিয়ে তালিম কার্যক্রম চালু করি। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে ৬ কাঠা জমি অনুদান পেয়ে এবং সরকারি অনুদানের ৩ বান টিন ও এলাকাবাসীর সহযোগীতায় ৮১ হাত একটি ছাপড়া ঘর করে হাফিজিয়া মাদ্রাসা কার্যক্রম চালু করি। বর্তমানে এই মাদ্রাসাটি ৩ তলা বিল্ডিং হয়ে নামকরণ হয়েছে তাহফীজুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসা বর্তমানে যার ছাত্রের সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন। এখানে এয়াতিমদের জন্য বিনা খরচে পড়াশোনা করানো হয়। এই জমিতে একটি মসজিদ ও নির্মাণ করা হয়েয়ছে।
আমি ১৮ বছর যাবত অসহায় ও দুস্থ নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য দুইটি সরকারি রেজিষ্ট্রেশনকৃত সমিতি করেছি যার নির্বাচিত সভাপতি, সমিতির নাম: মহিলা অধিদপ্তর কর্তৃক রেজিষ্ট্রেশনকৃত যথাক্রমে মোহনা মহিলা উন্নয়ন সংস্থা, মোহনা যুব উন্নয়ন মহিলা সমবায় সমিতি, যুব উন্নয়ন অফিস রেজিষ্ট্রেশনকৃত এই সমতিতে মহিলাদের হাতের কাজ, কারচুপি, কাঁথা সেলাই, বাশের কাজ, হাস-মুরগী পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। আমার এই সমাজসেবা মূলক কাজের মূল্যায়ন স্বরূপ উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নারী সমাজ উন্নয়য়ে জয়ীতা পুরস্কারে ভূষিত করেন।
হালুয়াঘাট উপজেলায় বন্যায় বন্যাকবলিত এলাকায় সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ভাইয়ের সাথে নৌকাযোগে এবং পানিতে করে বন্যাকবলিত আশ্রয়কেন্দ্রে রান্নাকরা খাবার মানুষের মাঝে বিতরণ করেছি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি মাঠে সক্রিয় ছিলেন। দলের আদর্শ বাস্তবায়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পেলে নিজেকে আরও নিবেদিতভাবে সম্পৃক্ত রাখবেন বলেও জানান।
এ সময় তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন এবং তিনি আরও বলেন, “সম্মান দেয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। আমি বিশ্বাস করি এবং আশাবাদী।” হোসনে আরা বেগম নীলু আরও বলেন, গত কয়েকদিনে অনেক নারী প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করেছেন। তাদের সকলের জন্য শুভকামনা জানাই এবং যোগ্য ও সঠিক ব্যক্তিদের মূল্যায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এছাড়া দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আস্থা রেখে তিনি বলেন, ত্যাগী ও নিবেদিত কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে দলীয় অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সমর্থন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ অবস্থায় ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থেকে প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।

স্টাফ রিপোর্টার 























