চার দিকে কলা পেঁপে আনারস বাগান। কিছু বসতি আর বাড়ি ঘরও রয়েছে। রয়েছে চোখ জুড়ানো কৃষি রাজ্য। ফল ফসলের বাগান বাগিচা ভরা। আদা হলুদ কচু কফির মতো অনেক ফসলের চাষাবাদ প্রচুর পরিমানে হয়ে থাকে। পেয়ারা কাজু বাদাম আর ড্রাগণের বাগানও কম নয়। কৃষি রাজ্যে যেন সোনা ফলছে। এ এলাকার প্রায় ৯০ জন কৃষি কাজের সাথে জড়িত। এদের পেশা নেশাই যেন কৃষি কাজ। বাপ দাদা থেকে শুরু নতুন প্রজন্মেরও যেন কৃষি কাজই তাদের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। প্রাণ ফিরে পায় জমি চাষে, ফসল আবাদে। সারা দিন মাঠে শ্রম দিয়ে গড়ে তোলেন সুন্দর ফসলের খন্ড খন্ড রাজ্য।
অর্থ আর পুঁজি বিনিয়োগ করতে দ্বিধা নেই তাদের। সারা বিষ নিড়ানি পরিচর্যা যেন রুটি মাফিক। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ধার দেনা ব্যাংক লোন থেকে শুরু করে মহাজনি ঋণ করেও কৃষিতে বিনিয়োগ করে থাকে। অতিকষ্টে গড়ে পেঁপে আর কলা বাগানের মাঝ খানে খানে দুই কৃষকের পেঁপে ও কলা গাছ কেটে ফেলেছে দূর্বৃত্তরা। রাতের আধাঁরে আব্দুল জলিল (৪৩) এর তিন বিঘা পেঁপে বাগানের মাঝ খান থেকে ৫০ টির মত ফুল ফল আসা গাছ কেটে ফেলেছে দূর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে তবে কৃষক রবিবার সকালে বাগানে এমন দৃশ্য দেখতে পায়। তবে স্থানীয়দের ডেকে নিয়ে দেখান ঐ কৃষকরা। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বেরিবাইদ গ্রামে এমন ঘটনাটি ঘটেছে।
কৃষক আব্দুল জলিল জানান, তার বাড়ির পালানে তিন বিঘা জমিতে আনারসের বাগানে সাথী ফসল হিসেবে উন্নত জাতের টিপ লেডি জাতের পেঁপে লাগিয়েছে। প্রতিটি পেঁপের চারা ৫০ টাকা দামে কিনে সাথে বাঁশের খুঁটিসহ পরিচর্যা ব্যয় হয়েছে প্রায় দুইশত টাকার মতো। তার ধারণা পূর্ব শুত্রুর জের ধরে দুর্বৃত্তরা এমন কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, রাতে আধাঁরে পুরো বাগানসহ আশপাশের বাগান কেটে দিলে উপায় ছিল না?
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় কৃষকদের মধ্যে নতুন চিন্তার জন্ম দিয়েছে। তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের বিষয়টি অবগত শেষে মধুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বলে জানান ঐ কৃষক। তার দাবি তিনি এ ফসল নষ্টের সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার চান।
অপর দিকে একই গ্রামের বাইদের পূর্ব পাড়ে ইউনুস আলী (৩৮) নামের এক কৃষক ১২০ ছড়ি কলাসহ একই রাতে কেটেছে দুর্বৃত্তরা। এর আগেও তার ঐ বাগানসহ পাশেই মাজারের কাছে সর্বি কলার বাগান কাটার ঘটনা ঘটে ছিল। এ নিয়ে ঐ বাগানে তিন বার কলা কাটা হলো।
ইউনুছ আলী জানান, প্রতিটি ছড়ি ৫০০-৬০০ টাকা দামে বিক্রি করতে পারতো, রাতের আঁধার এমনি ভাবে কাটায় এ প্রান্তিক ক্ষুদ্র কৃষক অনেকটা ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় তিনিও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তার দাবি তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার চান।
স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহ আলম বলেন,এমন ঘটনা ন্যাক্কারজনক। তারা ক্ষতিগ্রস্ত বাগান ঘুরে দেখেছে। রাতের আধাঁরে এমন কাজ করায় এলাকায় কৃষকরা চিন্তিত। তিনিও এর বিচার চান।
বেরিবাইদ গ্রামের ফজর আলী জানান, যে বা যারাই এ কাজটি করেছে এটা ন্যাক্কারজনক। এমন ঘটনা চলতে থাকলে এলাকায় কৃষকরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, এক কৃষকেরই এবার দিয়ে তিন বার কলা কাটার ঘটনা ঘটলো। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করেন।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম ফজলুল হক বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেয়েছে। দুর্বৃত্তরা কেটেছে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
হাবিবুর রহমান, মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি 



















