০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে অফিসকে বাসা বানিয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বসবাস

 

নিয়ম ভেঙে অফিসকে বাসা বানিয়ে ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। শুধু বসবাসই নয় সেখানে রান্নাসহ অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে বিদ্যুৎ। এতো সুযোগ-সুবিধার পরেও তাদের বিরুদ্ধে সময় মত অফিস না করার অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযুক্তরা দায় স্বীকার করলেও নাগরিক নেতৃবৃন্দরা বলছেন, তাদেরকে আনা হোক জবাবদিহিতার আওতায়।

 

নগরের বাউন্ডারী রোডে দৃষ্টি নন্দন পাঁচতলা ভবন ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়। ভবনটির পাঁচ তলার তিনটি রুম ব্যবহার করছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুর রহমান এবং নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। এর মধ্যে একটি ডাইনিং এবং বাকি দুটিতে তারা থাকছেন। এছাড়াও নিয়ম ভেঙে থাকছেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, নকশাকার রাশেদুল ইসলাম, এস্টিমেটর হুমায়ূন কবীর, উচ্চমান সহকারী হাদিউল ইসলাম মোড়ল, ইলেক্ট্রিসিয়ান জেবারুল মিয়াসহ আটজন। তারা ব্যবহার করছেন এসি, ফ্রিজ, লাইট এবং পানি।

 

সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গিয়ে অফিসে পাওয়া যায়নি নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুর রহমানকে। পরে পাঁচতলায় গিয়ে রুমে হাবিবুর রহমানকে পাওয়া গেলেও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কক্ষে তালা দেখা যায়।

 

সাংবাদিকদের দেখে চমকে যান নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, পরিবার ঢাকায় বসবাস করায় ময়মনসিংহে বাসা ভাড়া না নিয়ে অফিসের গেস্টরুমে থাকছেন। ভাড়া হিসেবে সামান্য টাকা আগামী জুন মাসে সরকারকে দিবেন। দসকাল সাড়ে ৯টা বাজলেও অফিসে কেন জাননি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৯টার সময় অফিসে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে নাশতা খেতে উপরে উঠেছি।

 

আর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুর রহমানকে রুমে পাওয়া না গেলেও তিনি মুঠোফোনে বলেন, তাদের থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে।

 

অভিযুক্ত স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী হাদিউল ইসলাম মোড়ল বলেন, অফিসে রাত্রিযাপন করার আমাদের চাকুরির বিধিতে নেই। কিন্তু আমার স্যার (নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান) থাকায় বাধ্য হয়ে আমার থাকতে হচ্ছে। স্যার না করলে আর থাকব না।

 

আয়া মমতাজ বেগম বলেন, ৬ মাস ধরে আটজনের জন্য তিনবেলা করে রান্না করছি। তারা আমাকে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে দিবে বলে আনলেও এখন ৬ হাজার টাকা দিচ্ছে। গত ঈদে বোনাস দেওয়ার কথা থাকলেও দেয়নি। তারা এমন করলে আমার এখানে কাজ করা সম্ভব হবে না। তাদের জন্য প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ পদের খাবার রান্না করতে হয়। আজও দেশি মুরগীর মাংস, শাক, মাছ এবং ডাল রান্না করছি। সকাল সাতটায় এসে যেতে হয় রাত ১০টায়। এতে পুষে না।

 

নিয়ম বহির্ভূত ভাবে সরকারি অফিসকে বাসা হিসেবে ব্যবহার করায় অর্থের অপচয় হচ্ছে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, এটি অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে করে অন্য সরকারি কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে সতর্ক হবেন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হালুয়াঘাটে কারিতাসের টেকসই জীবিকায়ন ও সহনশীলতা কর্মসূচীর বার্ষিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাকৃবির বীর প্রতীক এটিএম খালেদ স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ক্র্যাক প্লাটুন

18 May 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ময়মনসিংহে অফিসকে বাসা বানিয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বসবাস

পোষ্টের সময় : ০৮:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

 

নিয়ম ভেঙে অফিসকে বাসা বানিয়ে ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। শুধু বসবাসই নয় সেখানে রান্নাসহ অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে বিদ্যুৎ। এতো সুযোগ-সুবিধার পরেও তাদের বিরুদ্ধে সময় মত অফিস না করার অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযুক্তরা দায় স্বীকার করলেও নাগরিক নেতৃবৃন্দরা বলছেন, তাদেরকে আনা হোক জবাবদিহিতার আওতায়।

 

নগরের বাউন্ডারী রোডে দৃষ্টি নন্দন পাঁচতলা ভবন ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়। ভবনটির পাঁচ তলার তিনটি রুম ব্যবহার করছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুর রহমান এবং নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। এর মধ্যে একটি ডাইনিং এবং বাকি দুটিতে তারা থাকছেন। এছাড়াও নিয়ম ভেঙে থাকছেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, নকশাকার রাশেদুল ইসলাম, এস্টিমেটর হুমায়ূন কবীর, উচ্চমান সহকারী হাদিউল ইসলাম মোড়ল, ইলেক্ট্রিসিয়ান জেবারুল মিয়াসহ আটজন। তারা ব্যবহার করছেন এসি, ফ্রিজ, লাইট এবং পানি।

 

সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গিয়ে অফিসে পাওয়া যায়নি নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুর রহমানকে। পরে পাঁচতলায় গিয়ে রুমে হাবিবুর রহমানকে পাওয়া গেলেও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কক্ষে তালা দেখা যায়।

 

সাংবাদিকদের দেখে চমকে যান নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, পরিবার ঢাকায় বসবাস করায় ময়মনসিংহে বাসা ভাড়া না নিয়ে অফিসের গেস্টরুমে থাকছেন। ভাড়া হিসেবে সামান্য টাকা আগামী জুন মাসে সরকারকে দিবেন। দসকাল সাড়ে ৯টা বাজলেও অফিসে কেন জাননি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৯টার সময় অফিসে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে নাশতা খেতে উপরে উঠেছি।

 

আর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুর রহমানকে রুমে পাওয়া না গেলেও তিনি মুঠোফোনে বলেন, তাদের থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে।

 

অভিযুক্ত স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী হাদিউল ইসলাম মোড়ল বলেন, অফিসে রাত্রিযাপন করার আমাদের চাকুরির বিধিতে নেই। কিন্তু আমার স্যার (নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান) থাকায় বাধ্য হয়ে আমার থাকতে হচ্ছে। স্যার না করলে আর থাকব না।

 

আয়া মমতাজ বেগম বলেন, ৬ মাস ধরে আটজনের জন্য তিনবেলা করে রান্না করছি। তারা আমাকে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে দিবে বলে আনলেও এখন ৬ হাজার টাকা দিচ্ছে। গত ঈদে বোনাস দেওয়ার কথা থাকলেও দেয়নি। তারা এমন করলে আমার এখানে কাজ করা সম্ভব হবে না। তাদের জন্য প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ পদের খাবার রান্না করতে হয়। আজও দেশি মুরগীর মাংস, শাক, মাছ এবং ডাল রান্না করছি। সকাল সাতটায় এসে যেতে হয় রাত ১০টায়। এতে পুষে না।

 

নিয়ম বহির্ভূত ভাবে সরকারি অফিসকে বাসা হিসেবে ব্যবহার করায় অর্থের অপচয় হচ্ছে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, এটি অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে করে অন্য সরকারি কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে সতর্ক হবেন।

 

Share this news as a Photo Card