পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে গত সপ্তাহ থেকে ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশে পুশইনের একাধিক চেষ্টা প্রতিহত করার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সর্বশেষ বুধবার (১০ জুন) জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর সীমান্তে এক ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরের অন্ধকারে উপজেলার কামালপুরের রামরামপুর সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৮২ নম্বর পিলারের পাশে সীমান্তের লাইট নিভিয়ে সাতজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবির কামালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা এবং স্থানীয় গ্রামবাসী দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে পুশইনের শিকার হওয়া সাতজনের মধ্যে ছয়জন ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে গেলেও একজন বৃদ্ধ সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকা পড়েন। তাকে ফিরিয়ে নিতে বিএসএফ অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। প্রায় দেড় মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিএসএফের একজন সদস্য গুলি করার হুমকিসূচক মন্তব্য করলে বিজিবির এক কর্মকর্তা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
ভিডিওতে বিজিবির ওই কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি গুলি করলে আমরা কি চুড়ি পরে বসে থাকবো? আপনি গুলির কথা বললেন কেন? আমাদের কাছে গুলি নাই? কেন গুলির কথা বললেন? আপনি গুলি করলে আমরা বসে থাকব? কেন আপনি গুলির কথা বললেন?’
অন্য একটি ভিডিওতে একই কর্মকর্তাকে বিএসএফ সদস্যের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি গুলি করার হুমকি দেন কেন? আপনি গুলি করলে আমরা কি বসে থাকবো? আপনি কোনো গুলি করবেন বললেন? আমাদের গুলি নেই?’
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে ওই বৃদ্ধ এখনো সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রখর রোদ ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও বৃদ্ধটি সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছেন। বিএসএফ তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পরিস্থিতির কোনো সুরাহা হয়নি।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘বিএসএফ একজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। আমরা তাকে ফেরত পাঠিয়েছি। লোকটি এখনো শূন্যরেখায় রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’
পরে তিনি আরও বলেন, ‘বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। তবে পুশইন ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।’

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি 























