এক যুগ মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব শেষে মসজিদের মুয়াজ্জিনকে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। এককালীন দেয়া দেয়া হয়েছে আর্থিক অনুদান। বিদায়ী মুয়াজ্জিনকে এক নজর দেখতে রাস্তায় সাড়ি বদ্ধ হয়ে এলাকাবাসী ভিড় করেন।
শুক্রবার অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে রাজকীয়ভাবে বিদায় জানান এ মুয়াজ্জিনকে।
উপজেলার মহিউদ্দিন মার্কেটের জামে মসজিদে ১৩ বছর যাবৎ মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সুলতু মিয়া। তিনি একই উপজেলার পৌর সদরের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি এর পাশাপাশি মদন পোষ্ট অফিসে কর্মরত ছিলেন। তিনি জীবনের শেষ প্রান্তে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব থাকাকালীন সঠিক সময়ে আজান, মুসল্লীদের সাথে সুন্দর আচরণ ও ভালবাসায় স্থানীয়রা নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাকে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দেয়। বিদায়ী সফর সঙ্গী হিসেবে যুক্ত হয় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল। মুসল্লীরা তাকে হাত নেড়ে কর্মজীবনের শেষ বিদায় জানান।
বিদায় পরবর্তী সময়ে যেনও তার পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারেন এই চিন্তা থেকে মসজিদ কমিটি ও সকল মুসল্লীরা এককালীন আর্থিক সহযোগিতা করেন । সমজিদ কমিটি বিদায়ী সংবর্ধনা, ক্রেস্ট ও নানা ধরনের উপহার তুলে দিয়ে বিদায় জানান। প্রায় শতাধিক মানুষ। ২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মুয়াজ্জিনের নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন। এমন বিদায় জানাতে পেরে খুশি মার্কেটের মুসল্লীরা। মুয়াজ্জিনের দীর্ঘ দিনের স্মৃতি তাদের হৃদয়কে ব্যথিত করবে বলেও জানান।
বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সমজিদ কমিটির সভাপতি আল মুনসুরুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল ফকিরের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়িক সাজেদুল হক সাজু, সাবেক ইমাম সাইফুল ইসলাম, ব্যবসায়িক শফিকুল আলম, হাফিজুর প্রমূখ।
বিদায়ী মুয়াজ্জিন সুলতু মিয়া বলেন, এমন ব্যতিক্রমী বিদায়ে মার্কেটের সকল মুসল্লীদের কাছে কৃতজ্ঞ। ভালোবাসার কাছে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন মুয়াজ্জিন । সকলের জন্য দোয়া করেন এবং দোয়া চেয়ে বিদায় নেন।
মসজিদ কমিটির সভাপতি আল মুনসুরুল আলম আরিফ বলেন, দেশের ইমাম মুয়াজ্জিন অবহেলিত অনেকে বৃদ্ধ বয়সে অসহায় হয়ে পড়েন। এমন বিদায় সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মুয়াজ্জিনের পরবর্তী জীবন যাতে ভালো কাটে এজন্য আমরাও সামান্য আর্থিক অনুদান দিয়ে সামিল হয়েছি। উনাকে এভাবে বিদায় দিতে পেরে আমরাও নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি মনে করি প্রত্যেক মসজিদ কমিটি যেন এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 





















