ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার হওয়ার আবেদন করতে এসে মোহাম্মদ মাসুদ (১৯) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক আটক হয়েছেন। সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে যাচাই-বাছাই শেষে তাকে আটক করা হয়।
আটক যুবক জানান, তিনি ২০১৭ সাল থেকে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮ ইস্টে বসবাস করছেন। তার বাবার নাম মো. জোবায়ের, মায়ের নাম শাকিলা খাতুন। তাদের আদি বাড়ি মিয়ানমারের মংডু অঞ্চলে। তিনি ছয় ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোটার হওয়ার জন্য জমা দেওয়া কাগজপত্রে তার নাম মোহাম্মদ মাসুদ থাকলেও বাবার নাম উল্লেখ করা হয়েছে মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন এবং মায়ের নাম শান্তনা আক্তার। ঠিকানা হিসেবে দেওয়া হয়েছে গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের দৌলতাবাদ গ্রাম। আবেদনপত্রের সঙ্গে সহনাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদ, জন্মনিবন্ধন, একটি মাদ্রাসার প্রত্যয়নপত্র এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফাওজুল কবীর খান জানান, আবেদনকারী বাংলা বলতে পারলেও লিখতে পারেন না। তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা থাকায় সন্দেহ হয়। পরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই নামে কোনো ব্যক্তি সেখানে বসবাস করেন না। এছাড়া যে মাদ্রাসার প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানেও ওই নামে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দালাল চক্রের মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পরে তাকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আটক মোহাম্মদ মাসুদ জিজ্ঞাসাবাদে জানান, কদ্দুছ বা কবীর নামে এক দালালের সঙ্গে এক লাখ টাকায় চুক্তি হয়েছিল ভোটার আইডি কার্ড করে দেওয়ার জন্য। তিনি আগাম ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। কয়েকদিন আগে তাকে গৌরীপুরে এনে একটি হোটেলে রাখা হয়। পরে সাগর নামে আরেক ব্যক্তি তাকে নির্বাচন অফিসে নিয়ে আসে। আটক হওয়ার পর তারা পালিয়ে যায়।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আটক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শামীম খান, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 





















