০৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব হবেন কে

 

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ আগস্ট থেকে নতুন রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন বিএনপিতে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে দলের বর্তমান মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। দলীয় উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত। তবে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেনি।

 

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিবের পদটি শূন্য হবে। এ পরিস্থিতিতে পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আপাতত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। পরবর্তী সময়ে দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তাঁকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হতে পারে।

 

তবে রিজভীর পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও জোরেশোরে আলোচনায় রয়েছে। কোনো কারণে এই দুজনের কেউ মহাসচিব না হলে যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি কিংবা হাবিব উন নবী খান সোহেলের মধ্য থেকে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

কেন আলোচনায় সালাহউদ্দিন ও রিজভী

 

মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছেন দলের নেতারা। দুজনই দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন।

 

স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং সংসদে বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতার কারণে তাঁকে মহাসচিব পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

এ ছাড়া অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সক্রিয় থাকার বিষয়টিও তাঁর পক্ষে যাচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও তাঁর অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। গত দেড় দশকে মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্যেও তিনি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সক্রিয় ছিলেন।

 

রাজপথের আন্দোলনেও তাঁকে নিয়মিত দেখা গেছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাধা ও হামলার মুখেও তিনি দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পেলেও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও সাংগঠনিক ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে দলের নিবেদিতপ্রাণ ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে রিজভীর নামও মহাসচিব পদের আলোচনায় রয়েছে।

 

আলোচনায় আরও দুই যুগ্ম মহাসচিব

 

সালাহউদ্দিন আহমদ ও রিজভীর বাইরে শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে।

 

শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বর্তমানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের পাশাপাশি পানিসম্পদমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু। পরবর্তী সময়ে রাজপথের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং কারাবরণও করেছেন। দলীয় রাজনীতিতে তাঁর তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে তাঁকেও সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।

 

অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলও আলোচনায় রয়েছেন। ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল সামলানোর পাশাপাশি বিএনপির কঠিন সময়েও রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি। সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় একাধিকবার গ্রেপ্তার হন।

 

দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির অনেক নেতা বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলেও সোহেল এখনো কোনো সরকারি পদ পাননি। এমনকি সর্বশেষ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়নও পাননি। এরপরও দলের সিদ্ধান্ত ও আনুগত্যের বাইরে না যাওয়ায় ভবিষ্যতে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে দলের কেউ কেউ মনে করছেন।

 

এখনই চূড়ান্ত কিছু বলতে নারাজ বিএনপি

 

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হলেও বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি। দল জানিয়েছে, আগামী ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর নাম জানানো হবে।

 

মহাসচিব পদ নিয়েও দলের মধ্যে গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। গত ১ আগস্ট বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি ও মহাসচিব নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

 

দলের এক সংসদ সদস্যের দাবি, রাষ্ট্রপতি ও পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন—সে বিষয়ে মোটামুটি সিদ্ধান্ত ওই বৈঠকেই হয়ে গেছে। তবে কৌশলগত কারণে এখনই নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

 

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, রাষ্ট্রপতি বা দলের পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে অনেক আলোচনা থাকলেও এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান মহাসচিব রাষ্ট্রপতি হলে পদটি শূন্য হবে। তখন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরবর্তীতে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচন করা হবে।

 

ফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদে আপাতত সবচেয়ে আলোচিত নাম রুহুল কবির রিজভী ও সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও হাবিব উন নবী খান সোহেলকেও সম্ভাব্য তালিকার বাইরে রাখা হচ্ছে না।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প

ভালুকায় দারুননাজাত মডেল মাদরাসায় শতভাগ পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬২.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী

11 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব হবেন কে

পোষ্টের সময় : ০১:৪০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

 

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ আগস্ট থেকে নতুন রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন বিএনপিতে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে দলের বর্তমান মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। দলীয় উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত। তবে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেনি।

 

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিবের পদটি শূন্য হবে। এ পরিস্থিতিতে পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আপাতত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। পরবর্তী সময়ে দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তাঁকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হতে পারে।

 

তবে রিজভীর পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও জোরেশোরে আলোচনায় রয়েছে। কোনো কারণে এই দুজনের কেউ মহাসচিব না হলে যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি কিংবা হাবিব উন নবী খান সোহেলের মধ্য থেকে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

কেন আলোচনায় সালাহউদ্দিন ও রিজভী

 

মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছেন দলের নেতারা। দুজনই দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন।

 

স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং সংসদে বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতার কারণে তাঁকে মহাসচিব পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

এ ছাড়া অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সক্রিয় থাকার বিষয়টিও তাঁর পক্ষে যাচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও তাঁর অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। গত দেড় দশকে মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্যেও তিনি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সক্রিয় ছিলেন।

 

রাজপথের আন্দোলনেও তাঁকে নিয়মিত দেখা গেছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাধা ও হামলার মুখেও তিনি দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পেলেও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও সাংগঠনিক ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে দলের নিবেদিতপ্রাণ ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে রিজভীর নামও মহাসচিব পদের আলোচনায় রয়েছে।

 

আলোচনায় আরও দুই যুগ্ম মহাসচিব

 

সালাহউদ্দিন আহমদ ও রিজভীর বাইরে শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে।

 

শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বর্তমানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের পাশাপাশি পানিসম্পদমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু। পরবর্তী সময়ে রাজপথের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং কারাবরণও করেছেন। দলীয় রাজনীতিতে তাঁর তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে তাঁকেও সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।

 

অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলও আলোচনায় রয়েছেন। ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল সামলানোর পাশাপাশি বিএনপির কঠিন সময়েও রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি। সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় একাধিকবার গ্রেপ্তার হন।

 

দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির অনেক নেতা বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলেও সোহেল এখনো কোনো সরকারি পদ পাননি। এমনকি সর্বশেষ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়নও পাননি। এরপরও দলের সিদ্ধান্ত ও আনুগত্যের বাইরে না যাওয়ায় ভবিষ্যতে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে দলের কেউ কেউ মনে করছেন।

 

এখনই চূড়ান্ত কিছু বলতে নারাজ বিএনপি

 

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হলেও বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি। দল জানিয়েছে, আগামী ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর নাম জানানো হবে।

 

মহাসচিব পদ নিয়েও দলের মধ্যে গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। গত ১ আগস্ট বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি ও মহাসচিব নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

 

দলের এক সংসদ সদস্যের দাবি, রাষ্ট্রপতি ও পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন—সে বিষয়ে মোটামুটি সিদ্ধান্ত ওই বৈঠকেই হয়ে গেছে। তবে কৌশলগত কারণে এখনই নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

 

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, রাষ্ট্রপতি বা দলের পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে অনেক আলোচনা থাকলেও এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান মহাসচিব রাষ্ট্রপতি হলে পদটি শূন্য হবে। তখন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরবর্তীতে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচন করা হবে।

 

ফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদে আপাতত সবচেয়ে আলোচিত নাম রুহুল কবির রিজভী ও সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও হাবিব উন নবী খান সোহেলকেও সম্ভাব্য তালিকার বাইরে রাখা হচ্ছে না।

 

Share this news as a Photo Card