নেত্রকোনার মদনে মানসিক রোগে আক্রান্ত ছেলের দায়ের কোপে এলাহি মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে পৌর সদরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আশকিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে ইয়াছিন মিয়া (২০)কে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত এলাহি মিয়ার বাড়ি উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের শিবপাশা গ্রামের মাঝপাড়ায়। তিনি আশকিপাড়ায় তার স্বজনদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যান এলাহি মিয়া। নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে রান্নাঘরে গিয়ে নিজেই চা তৈরি করেন। এ সময় ছেলে ইয়াছিন মিয়াকেও চা পান করতে ডাকেন তিনি। চা খাওয়ার কথা বলার পরপরই ইয়াছিন ঘরে থাকা বটি দা দিয়ে বাবাকে পেছন দিক থেকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে গুরুতর আহত হন এলাহি মিয়া।
পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ইয়াছিন মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
নিহতের পুত্রবধূ জেরিন আক্তার বলেন, ‘বাবা ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বাসায় আসেন। চা পান করার জন্য রান্নাঘরে গেলে ইয়াছিনকে চা খেতে ডাকেন। এরপরই ইয়াছিন বটি দা দিয়ে বাবাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। আহত অবস্থায় বাবা আমাকে ডাকেন। পরে বলেন, “আমার প্রতি তোমরা দাবি রাখ না।” এরপর আর কিছু জানি না।’
তিনি আরও বলেন, ইয়াছিন মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তাকে চিকিৎসাও করানো হচ্ছিল।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম বলেন, ‘ইয়াছিন দুই দিন ধরে খাওয়া-দাওয়া করেনি। বুধবার সকালে তার বাবা তাকে চা পান করতে বলেন। এ কথা বলার পরই ইয়াছিন পেছন দিক থেকে বাবাকে কোপায়। পরে তাকে আটক করা হয়েছে।’
ইয়াছিন মানসিক রোগী কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘তিনি মানসিক রোগী কি না, সেটা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলতে পারবেন। আমি তো আর ডাক্তার নই।’
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 



















