কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পর প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির নেতারা ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দিলেও দলটির পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে বিএনপির আলাদা কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নেই; এটি সরকারের প্রশাসনিক ও আইনগত বিষয়।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতে যে ভুল করেছে তা স্বীকার করেনি এবং বর্তমান কর্মসূচি তাদের জন্য আরও সমস্যার কারণ হতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি বলেছেন, আওয়ামী লীগ আর রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি “মাফিয়া” ও “ফ্যাসিবাদী” সংগঠন।
যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু আতিক আল হাসান মিন্টু জানান, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যুবদলকে কোনো বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সংগঠনটি বর্তমানে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে মনোযোগী।
অন্যদিকে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, দলীয়ভাবে কোনো নির্দেশনা না এলেও নেতাকর্মীরা সম্ভাব্য বিশৃঙ্খতা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
তবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা দিয়েছে যে ২৩ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কেন্দ্র, জেলা, মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্ভাব্য অস্থিরতা এড়াতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সেনা, পুলিশ ও বিজিবির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও প্রার্থনা, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, ভার্চুয়াল আলোচনা সভা এবং পরবর্তী দিনগুলোতে বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি। দলীয় ঘোষণায় বলা হয়েছে, ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।

স্টাফ রিপোর্টার 























