ময়মনসিংহ নগরীতে এক পশু চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তালহাজুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরের জিলা স্কুলসংলগ্ন একটি গলিতে ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ নামের চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী চিকিৎসক আশিকুর রহমানের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।
চিকিৎসকের দেওয়া লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি চেম্বারে প্রবেশ করে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন। তিনি প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে লোহার রড দিয়ে তাঁকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর কর্মী ঈশান আহমেদকেও মারধর করা হয়। চিকিৎসকের স্ত্রীকেও জোর করে চেম্বার থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চেম্বারের ক্যাশবাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করেন চিকিৎসক। থানায় অভিযোগ করার পর তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এদিকে ঘটনার প্রায় এক মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কয়েকজনকে চিকিৎসকের চেম্বারে প্রবেশ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে এক নারী চিকিৎসককে জুতা দিয়ে আঘাত করেন। পাশে থাকা তালহাজুর রহমানকে ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করতে দেখা যায়। পরে তিনিও চিকিৎসককে মারধর করেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
তবে হামলার কারণ হিসেবে চাঁদার দাবির অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ও মৃত্যু নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। পুলিশ বলছে, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের সূত্র ধরে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রাথমিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ও মৃত্যু নিয়ে বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই বিরোধের জেরেই চিকিৎসকের ওপর হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তালহাজুর রহমানকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। শনিবার সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
একই দিনে পৃথক ঘটনায় মহানগর ছাত্রদলের সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবু তাহের রহমানকেও প্রাথমিক সদস্যপদসহ পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায় বলেন, তালহাজুর রহমানের বিষয়ে চিকিৎসকের চেম্বারে মারধরের ভিডিওটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে আসে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে হামলার প্রকৃত কারণ ও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার 























