০৮:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনে পা রাখলেন পুতিন

 

চীনে পা রেখেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। স্থানীয় সময় রোববার (৩১ আগস্ট) উত্তর চীনের তিয়ানজিন শহরে অবতরণ করেছেন তিনি। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আয়োজিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন পুতিনসহ প্রায় ২০ জন বিশ্বনেতা। খবর এএফপির।

 

বুধবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী বেইজিংয়ে এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছে। রোববার এবং সোমবার বন্দর নগরীতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলন হবে।

 

সেখানে চীন, ভারত, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং বেলারুশ ছাড়াও আরও ১৬টি দেশ পর্যবেক্ষক বা ‘সংলাপ অংশীদার’ হিসেবে যুক্ত থাকবে। রাশিয়া এবং চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে তিয়ানজিনে পা রাখেন পুতিন।

 

প্রায়ই এসসিওকে ন্যাটো সামরিক জোটের বিকল্প হিসেবে দাবি করে থাকে চীন ও রাশিয়া। শনিবার চীনের সিনহুয়া নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, এই শীর্ষ সম্মেলন সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ এবং হুমকি মোকাবিলায় এসসিওর ক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, এই সবকিছুই একটি ন্যায্য বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা গঠনে সাহায্য করবে।

 

তাইওয়ানের ওপর চীনের দাবি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের সঙ্গে দেশ দুটির সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেইজিং এবং মস্কো প্রভাব অর্জনের জন্য এসসিও’র মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে আগ্রহী।

 

সিঙ্গাপুরের নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ডিলান লোহ বলেন, চীন দীর্ঘদিন ধরেই এসসিওকে একটি পশ্চিমা-নেতৃত্বের বাইরে একটি শক্তিশালী ব্লক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে যা একটি নতুন ধরণের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে উৎসাহিত করে। তাদের দাবি, এটা আরও বেশি গণতান্ত্রিক হবে।

 

ডিলান লোহ বলেন, সংক্ষেপে এটি চীনের-প্রভাবিত বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা প্রদান করে যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পশ্চিমা-প্রভাবিত ব্যবস্থা থেকে আলাদা।

 

২০০১ সালে এই ব্লক প্রতিষ্ঠা হয়। এর সবচেয়ে বড় বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুুদ পেজেশকিয়ান এবং ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ ২০ জনেরও বেশি নেতা যোগ দেবেন।

 

এর আগে চীনে পৌঁছান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার (৩০ আগস্ট) দেশটির বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এমন এক সময়ে মোদী চীনে গেলেন, যখন তার দেশের রপ্তানি পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

মোদী এ সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন। গত বছর রাশিয়ার কাজানে চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠক করেন মোদী।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা রয়েছে, সেটি আলোচনায় উঠে আসবে। এটি ছাড়াও বৈঠকে দুই নেতা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়েও আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ফুলপুরে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা, জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা 

হালুয়াঘাটে দুই দিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

04 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

চীনে পা রাখলেন পুতিন

পোষ্টের সময় : ০৯:৪৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

 

চীনে পা রেখেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। স্থানীয় সময় রোববার (৩১ আগস্ট) উত্তর চীনের তিয়ানজিন শহরে অবতরণ করেছেন তিনি। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আয়োজিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন পুতিনসহ প্রায় ২০ জন বিশ্বনেতা। খবর এএফপির।

 

বুধবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী বেইজিংয়ে এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছে। রোববার এবং সোমবার বন্দর নগরীতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলন হবে।

 

সেখানে চীন, ভারত, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং বেলারুশ ছাড়াও আরও ১৬টি দেশ পর্যবেক্ষক বা ‘সংলাপ অংশীদার’ হিসেবে যুক্ত থাকবে। রাশিয়া এবং চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে তিয়ানজিনে পা রাখেন পুতিন।

 

প্রায়ই এসসিওকে ন্যাটো সামরিক জোটের বিকল্প হিসেবে দাবি করে থাকে চীন ও রাশিয়া। শনিবার চীনের সিনহুয়া নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, এই শীর্ষ সম্মেলন সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ এবং হুমকি মোকাবিলায় এসসিওর ক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, এই সবকিছুই একটি ন্যায্য বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা গঠনে সাহায্য করবে।

 

তাইওয়ানের ওপর চীনের দাবি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের সঙ্গে দেশ দুটির সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেইজিং এবং মস্কো প্রভাব অর্জনের জন্য এসসিও’র মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে আগ্রহী।

 

সিঙ্গাপুরের নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ডিলান লোহ বলেন, চীন দীর্ঘদিন ধরেই এসসিওকে একটি পশ্চিমা-নেতৃত্বের বাইরে একটি শক্তিশালী ব্লক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে যা একটি নতুন ধরণের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে উৎসাহিত করে। তাদের দাবি, এটা আরও বেশি গণতান্ত্রিক হবে।

 

ডিলান লোহ বলেন, সংক্ষেপে এটি চীনের-প্রভাবিত বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা প্রদান করে যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পশ্চিমা-প্রভাবিত ব্যবস্থা থেকে আলাদা।

 

২০০১ সালে এই ব্লক প্রতিষ্ঠা হয়। এর সবচেয়ে বড় বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুুদ পেজেশকিয়ান এবং ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ ২০ জনেরও বেশি নেতা যোগ দেবেন।

 

এর আগে চীনে পৌঁছান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার (৩০ আগস্ট) দেশটির বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এমন এক সময়ে মোদী চীনে গেলেন, যখন তার দেশের রপ্তানি পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

মোদী এ সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন। গত বছর রাশিয়ার কাজানে চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠক করেন মোদী।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা রয়েছে, সেটি আলোচনায় উঠে আসবে। এটি ছাড়াও বৈঠকে দুই নেতা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়েও আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।

 

Share this news as a Photo Card