০৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নান্দাইলে ১৪৪ ধারা ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা, নির্মাণকাজ বন্ধ করল পুলিশ

 

ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় আদালতের ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞার জারির পরও বিরোধপূর্ণ জায়গাতেই নির্মাণকাজ ও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বিরোধপূর্ণ জায়গাতে নির্মাণকাজ শুরু করেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।

 

অভিযোগকারী মো. আরিফ উদ্দিন সিকদার (৬২) নান্দাইল উপজেলার চর কোমরভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, নান্দাইল থানার চর কামরভাঙ্গা মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর ৪০৭-এর ৩১১২ দাগে থাকা ২৯ শতাংশ জমি নিয়ে শহিদ সিকদার (৫৫), সাইদুল ইসলাম সিকদার (৪৮), নার্গিস আক্তার ও পিয়াস সিকদার (২০)-এর সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ জায়গাতে ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি বাধা দিলে অভিযোগকারীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার একই দিনে নান্দাইল মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে বিষয়টি আপোসের মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেয়। তবে পরদিন আবারও ওই জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করেন প্রতিপক্ষ।

 

গত ৩০ আগস্ট বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন, আরিফ উদ্দিন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি মোকদ্দমা নম্বর-১১৮৮/২৬, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় এবং স্মারক নম্বর-৩৬০০। আদালত গত ৩০ আগষ্ট বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

 

আরিফ উদ্দিন সিকদার বলেন, ২৯ শতাংশ জমির মধ্যে আমার ৭ শতাংশ জায়গা স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরদিন আবারও বেদখলের চেষ্টা করা হয়। ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞার শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করার চেষ্টা করা হলে পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে দেয়।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা পরও জমিতে দখলের চেষ্টা অব্যাহত থাকায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

নির্মাণাধীন বহু দল ভবনের ঠিকাদার মো. মোশারফ হোসেন বলেন- ১৪৪ ধারা জারি এই জায়গায়, আমার জানাছিল না। আমাকে শহীদ শিকদার ও সাইদুল শিকদার কাজ করতে বলছে তাই এসেছি। এখন পুলিশ এসে বাঁধা দিয়েছে কাজ বন্ধ করে রাখছি।

 

আমিনুল শিকদার বলেন- আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরেও তিনবার তারা ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেছে। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন করে আমাদের জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করছে। পুলিশ এসে বলে গেলে বন্ধ থাকে পরে আবার কাজ শুরু করে দেয়। তাছাড়াও স্থানীয় ঠিকাদার মোশাররফ হোসেন ক্ষমতা দেখিয়ে শহীদের পক্ষে কাজ করতেছে।

 

আদালতের ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ শিকদার ও তার ভাই সাইদুল শিকদারকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান- বাড়িতে কেউ নাই তারা বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে গেছে।

 

নান্দাইল মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পিন্টু চন্দ্র দে মুঠোফোনে জানান- আদালতের ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের কোন সুযোগ নেই। তারপরেও নিষেধাজ্ঞা জায়গায় কাজ হচ্ছে এমন খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ফ্যাসিস্টরা নানা পাঁয়তারা করছে, বট বাহিনী অপতথ্য ছড়াচ্ছে: এমপি মাজেদ

আবাসিক মিটারে ১১ বছর ধরে চলছে বাণিজ্যিক ডিস ও ইন্টারনেটের ব্যবসা

04 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

নান্দাইলে ১৪৪ ধারা ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা, নির্মাণকাজ বন্ধ করল পুলিশ

পোষ্টের সময় : ০৯:০৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় আদালতের ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞার জারির পরও বিরোধপূর্ণ জায়গাতেই নির্মাণকাজ ও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বিরোধপূর্ণ জায়গাতে নির্মাণকাজ শুরু করেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।

 

অভিযোগকারী মো. আরিফ উদ্দিন সিকদার (৬২) নান্দাইল উপজেলার চর কোমরভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, নান্দাইল থানার চর কামরভাঙ্গা মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর ৪০৭-এর ৩১১২ দাগে থাকা ২৯ শতাংশ জমি নিয়ে শহিদ সিকদার (৫৫), সাইদুল ইসলাম সিকদার (৪৮), নার্গিস আক্তার ও পিয়াস সিকদার (২০)-এর সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ জায়গাতে ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি বাধা দিলে অভিযোগকারীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার একই দিনে নান্দাইল মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে বিষয়টি আপোসের মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেয়। তবে পরদিন আবারও ওই জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করেন প্রতিপক্ষ।

 

গত ৩০ আগস্ট বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন, আরিফ উদ্দিন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি মোকদ্দমা নম্বর-১১৮৮/২৬, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় এবং স্মারক নম্বর-৩৬০০। আদালত গত ৩০ আগষ্ট বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

 

আরিফ উদ্দিন সিকদার বলেন, ২৯ শতাংশ জমির মধ্যে আমার ৭ শতাংশ জায়গা স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরদিন আবারও বেদখলের চেষ্টা করা হয়। ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞার শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করার চেষ্টা করা হলে পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে দেয়।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা পরও জমিতে দখলের চেষ্টা অব্যাহত থাকায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

নির্মাণাধীন বহু দল ভবনের ঠিকাদার মো. মোশারফ হোসেন বলেন- ১৪৪ ধারা জারি এই জায়গায়, আমার জানাছিল না। আমাকে শহীদ শিকদার ও সাইদুল শিকদার কাজ করতে বলছে তাই এসেছি। এখন পুলিশ এসে বাঁধা দিয়েছে কাজ বন্ধ করে রাখছি।

 

আমিনুল শিকদার বলেন- আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরেও তিনবার তারা ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেছে। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন করে আমাদের জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করছে। পুলিশ এসে বলে গেলে বন্ধ থাকে পরে আবার কাজ শুরু করে দেয়। তাছাড়াও স্থানীয় ঠিকাদার মোশাররফ হোসেন ক্ষমতা দেখিয়ে শহীদের পক্ষে কাজ করতেছে।

 

আদালতের ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ শিকদার ও তার ভাই সাইদুল শিকদারকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান- বাড়িতে কেউ নাই তারা বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে গেছে।

 

নান্দাইল মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পিন্টু চন্দ্র দে মুঠোফোনে জানান- আদালতের ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের কোন সুযোগ নেই। তারপরেও নিষেধাজ্ঞা জায়গায় কাজ হচ্ছে এমন খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card