০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নারীর ভূমিকা

 

নারীর ভূমিকা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের ভিত্তি গড়ে ওঠে নিরাপদ খাদ্যের উপর আর এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নারীরা সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন। যেমন তারা কৃষি উৎপাদনে, পশুপালন ও মৎস্যচাষে, খাবার নির্বাচন ও ক্রয়ে, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণে, পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে, বাজারজাতকরণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছেন।

 

গ্রামীণ বাংলাদেশে নারীরা ফসল রোপণ, আগাছা দমন, ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সঠিক পদ্ধতিতে সার ও কীটনাশক ব্যবহার, জৈব সার প্রয়োগ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার মাধ্যমে তারা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অবদান রাখেন। গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি লালন-পালন ও মাছ চাষে নারীরা সরাসরি জড়িত। পশুখাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তারা দুধ, ডিম, মাংস ও মাছের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। ঘরোয়া ও ক্ষুদ্র শিল্প পর্যায়ে আচার, মোরব্বা, শুকনো খাদ্য, চাল-ডাল সংরক্ষণ ইত্যাদিতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করলে খাদ্যে জীবাণু সংক্রমণ কমে এবং খাদ্যের পুষ্টিমান বজায় থাকে।

 

নারীরা বাজার থেকে ভালো ও তাজা খাবার কেনেন। পচা বা ভেজাল খাবার এড়িয়ে চলেন। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য কেনেন না। বিশ্বস্ত দোকান থেকে খাদ্য কিনতে চেষ্টা করেন। এতে বাজারে নিরাপদ খাবারের চাহিদা বাড়ে। মা হিসেবে নারীরা পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেন। খাদ্য ধোয়া, খাবার ঠিকভাবে সংরক্ষণ করা, রান্না ও পরিবেশনের সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। অনেক নারী এখন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। নিরাপদ খাদ্য লেবেলিং, মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তাদের সচেতন করার মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অবদান রাখছেন।

 

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও আর্থিক সুযোগ প্রদান করলে খাদ্য নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। তাই টেকসই ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নারীর সক্রিয় নেতৃত্ব ও অবদানের মাধ্যমে একটি টেকসই ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

 

অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন

মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগ ,বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), ময়মনসিংহ

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

নাটকীয় কামব্যাকে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল

সেরিব্রাল পালসি ও অকুপেশনাল থেরাপি: শিশুর সম্ভাবনাকে বিকশিত করার এক নির্ভরযোগ্য পথ

29 June 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নারীর ভূমিকা

পোষ্টের সময় : ০৬:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

 

নারীর ভূমিকা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের ভিত্তি গড়ে ওঠে নিরাপদ খাদ্যের উপর আর এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নারীরা সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন। যেমন তারা কৃষি উৎপাদনে, পশুপালন ও মৎস্যচাষে, খাবার নির্বাচন ও ক্রয়ে, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণে, পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে, বাজারজাতকরণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছেন।

 

গ্রামীণ বাংলাদেশে নারীরা ফসল রোপণ, আগাছা দমন, ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সঠিক পদ্ধতিতে সার ও কীটনাশক ব্যবহার, জৈব সার প্রয়োগ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার মাধ্যমে তারা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অবদান রাখেন। গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি লালন-পালন ও মাছ চাষে নারীরা সরাসরি জড়িত। পশুখাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তারা দুধ, ডিম, মাংস ও মাছের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। ঘরোয়া ও ক্ষুদ্র শিল্প পর্যায়ে আচার, মোরব্বা, শুকনো খাদ্য, চাল-ডাল সংরক্ষণ ইত্যাদিতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করলে খাদ্যে জীবাণু সংক্রমণ কমে এবং খাদ্যের পুষ্টিমান বজায় থাকে।

 

নারীরা বাজার থেকে ভালো ও তাজা খাবার কেনেন। পচা বা ভেজাল খাবার এড়িয়ে চলেন। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য কেনেন না। বিশ্বস্ত দোকান থেকে খাদ্য কিনতে চেষ্টা করেন। এতে বাজারে নিরাপদ খাবারের চাহিদা বাড়ে। মা হিসেবে নারীরা পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেন। খাদ্য ধোয়া, খাবার ঠিকভাবে সংরক্ষণ করা, রান্না ও পরিবেশনের সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। অনেক নারী এখন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। নিরাপদ খাদ্য লেবেলিং, মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তাদের সচেতন করার মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অবদান রাখছেন।

 

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও আর্থিক সুযোগ প্রদান করলে খাদ্য নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। তাই টেকসই ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নারীর সক্রিয় নেতৃত্ব ও অবদানের মাধ্যমে একটি টেকসই ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

 

অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন

মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগ ,বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), ময়মনসিংহ

 

Share this news as a Photo Card