রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেসে চালানো যৌথ অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অস্ত্র ও বিস্ফোরক সামগ্রী। রোববার (২৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনটি থামার পর সেনাবাহিনী, রেলওয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে ৮টি আধুনিক বিদেশি পিস্তল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ২৬ রাউন্ড গুলি, ২ দশমিক ৩৯ কেজি গান পাউডার এবং ২ দশমিক ২৩ কেজি প্লাস্টিক বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক ট্রেনের এক বগির সিটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
অভিযানের নেতৃত্বে থাকা সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো অত্যন্ত আধুনিক ও বিপজ্জনক। এগুলোর উৎস এবং উদ্দেশ্য খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলপথসহ গণপরিবহনে তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমনে সেনাবাহিনীর এই ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
অভিযানের খবর জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রী আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও পরবর্তীতে সেনা ও পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানের সময় ট্রেন চলাচল কিছুক্ষণ বন্ধ রাখা হয়, পরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আবার চালু করা হয়।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা রেলপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও প্রকাশ করেছে। তারা মনে করেন, যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেনে স্ক্যানিং ও নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
এদিকে, বনলতা এক্সপ্রেসের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো রেলওয়ে ব্যবস্থাপনায় নতুন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আসার রুট অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 
























