২২ মে আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয় বিশ্ব জীববৈচিত্র্য দিবস। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো—জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক প্রোগ্রামের অধীনে ‘কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি (CBD)’ প্রতিবছর দিবসটির একটি থিম ঘোষণা করে। ২০২৫ সালের থিম হলো: ‘প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য ও টেকসই উন্নয়ন’ (Harmony with Nature and Sustainable Development)।
টেকসই উন্নয়ন মানে কী?
টেকসই উন্নয়ন বলতে বোঝায় এমন এক উন্নয়ন প্রক্রিয়া, যা বর্তমান প্রজন্মের প্রয়োজন মেটায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদাকে হুমকির মুখে না ফেলে। ১৯৯২ সালের ‘ধরিত্রী সম্মেলন’-এর এজেন্ডা ২১-এ পরিবেশ ও সামাজিক মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ন রেখে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের দিকটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।
জাতিসংঘের ২০১৫ সালের সাধারণ অধিবেশনে টেকসই উন্নয়নের জন্য ১৭টি অভীষ্ট নির্ধারণ করা হয়, যা ‘ফাইভ-পি’ (People, Planet, Prosperity, Peace, Partnership) ভিত্তিক। এই লক্ষ্যগুলোর বড় অংশ জুড়ে রয়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি।
জীববৈচিত্র্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জীববৈচিত্র্য অর্থাৎ উদ্ভিদ, প্রাণী ও অনুজীবের বৈচিত্র্য আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, ওষুধসহ জীবনের প্রায় সব উপাদানই জীববৈচিত্র্যনির্ভর। এমনকি আমাদের প্রতিদিনের শ্বাস-প্রশ্বাসেও রয়েছে উদ্ভিদের অবদান।
জীববৈচিত্র্যের ওপর হুমকি
অপরিকল্পিত নগরায়ন, বন উজাড়, জলাশয় ভরাট, অতিমাত্রায় পাখি ও জলজ প্রাণী শিকার, কীটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহারে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক লাভের চিন্তায় পরিবেশগত ভারসাম্য অবহেলিত হচ্ছে।
সমাধানের পথ-
জাতীয় ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও জনসম্পৃক্ততা ও সচেতনতার ঘাটতির কারণে সেগুলোর বাস্তবায়ন যথাযথভাবে হচ্ছে না। টেকসই উন্নয়ন অর্জনে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য একে অপরের পরিপূরক। একটির উন্নয়ন ছাড়া অন্যটি অসম্ভব। তাই এখনই সময় আমাদের উন্নয়ন চিন্তাধারায় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের গুরুত্বকে সুনিশ্চিত করা।



























