ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার উত্তর খয়রাকুড়ি অগ্রযাত্রা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক পাঁচ কর্মকর্তা ও পরিচালকের বিরুদ্ধে। ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নামে-বেনামে ঋণ উত্তোলনের মাধ্যমে এসব অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। সুদসহ বর্তমানে ওই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে দাবি সমিতি কর্তৃপক্ষের।
সমিতির ম্যানেজার নাদিম আহমেদ জানান, সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের নামে ১২ লাখ টাকা, সাবেক সম্পাদক মো. আবু সাঈদ খানের নামে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা, সাবেক সহ-সম্পাদক মো. রাসেল হাওলাদারের নামে ২০ লাখ টাকা, সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. তারেক রহমানের নামে ৩৫ লাখ টাকা এবং সাবেক সহ-সভাপতি, নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক ডিরেক্টর মো. হোসেন আলীর নামে ১ কোটি ৫২ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা ঋণ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।
সমিতি সূত্রে জানা যায়, সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মারা যাওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা সমুদয় ঋণের টাকা পরিশোধ করেছেন। রাসেল হাওলাদার ও তারেক রহমান আংশিক টাকা পরিশোধ করেছেন এবং সমিতির সঙ্গে তাদের লেনদেন অব্যাহত রয়েছে। আবু সাঈদ খান সামান্য কিছু টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সমিতির সদস্য শ্যামল মিত্র বলেন, তিনি কোনো ঋণ নেননি। অথচ সমিতি থেকে তার নামে ঋণ গ্রহণের নোটিশ পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন। একইভাবে হোটেল ব্যবসায়ী আরেক শ্যামলের নামেও তাকে না জানিয়ে ঋণ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সমিতির আরেক সদস্য লিটন পালও দাবি করেন, তার অজ্ঞাতসারে তার নামে ৫ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে।
সমিতি সংশ্লিষ্টরা আরও অভিযোগ করেন, কিছু ঋণের ক্ষেত্রে সমিতির রেজিস্টার, ঋণ আবেদনপত্র, অনুমোদনপত্র, ক্যাশবুক, লেজার ও ভাউচারে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
সমিতির কর্মকর্তাদের দাবি, সাবেক সহ-সভাপতি ও নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ক মো. হোসেন আলী সাধারণ সভায় ঋণ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। পরে তিনি তা অস্বীকার করেন। তার ঋণ নেওয়ার বিষয়ে একটি ভিডিও বক্তব্যও রয়েছে বলে দাবি করেছেন সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সমিতির ম্যানেজার নাদিম মিয়া বলেন, পাঁচজনের মধ্যে দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা ঋণ পরিশোধ করেছেন। আবু সাঈদ খান সামান্য কিছু টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা দিতে টালবাহানা করছেন। রাসেল হাওলাদার ও তারেক রহমান কিছু টাকা পরিশোধ করে সমিতির সঙ্গে লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছেন। হোসেন আলীর কাছে টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হোসেন আলী বলেন, সমিতি তার কাছে কোনো টাকা পায় না। সাধারণ সভায় টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্বীকারোক্তি দিয়েছি।’ আবু সাঈদ খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ-ছ অঞ্চলের সাবেক কাল্ব ডিরেক্টর হেলাল উদ্দিন বলেন, তিনি ডিরেক্টর থাকাকালে উত্তর খয়রাকুড়ি অগ্রযাত্রা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের ২৪তম সাধারণ সভায় হোসেন আলীসহ চারজনের বিভিন্ন নামে-বেনামে ঋণ গ্রহণের তথ্যের সত্যতা পান। পরে দ্রুত ঋণ পরিশোধের সুপারিশ করা হয়।
সমিতির চেয়ারম্যান সামসুল আলম সাম্স ও সেক্রেটারি নূর আক্তার বলেন, দায়ী ব্যক্তিদের সমিতির টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এরপরও টাকা পরিশোধ না করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হালুয়াঘাট প্রতিনিধি 

















