চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের উপকণ্ঠে ভয়াবহ বন্যায় একটি বৃদ্ধাশ্রমে ৩১ জন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের অধিকাংশই চলাফেরায় অক্ষম ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বেইজিংয়ের মিউন জেলার ওই বৃদ্ধাশ্রমে বন্যার সময় প্রায় ৭৭ জন প্রবীণ অবস্থান করছিলেন। পানি দ্রুত ২ মিটার উচ্চতায় উঠে যাওয়ায় অন্তত ৪০ জন আটকা পড়েন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকারী দল বুকসমান পানিতে হেঁটে তাদের বের করার চেষ্টা করছে।
স্থানীয় এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘বৃদ্ধাশ্রমটি যে শহর এলাকায় অবস্থিত, তা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ বলে বিবেচিত হতো। তাই তা সরিয়ে নেওয়ার তালিকায় ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এতে বোঝা যাচ্ছে, আমাদের জরুরি প্রস্তুতিতে ফাঁকফোকর ছিল। চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধি ছিল অপর্যাপ্ত। এই দুঃখজনক ঘটনা আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।’
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ওই নার্সিং হোম মূলত শারীরিকভাবে অক্ষম, অতি দরিদ্র ও নামমাত্র ভাতাপ্রাপ্ত প্রবীণদের জন্য নির্মিত হয়েছিল।
বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক এই বন্যায় এখন পর্যন্ত মোট ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের হেবেই প্রদেশে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৬ জনের। চেংদে শহরে নিহত হয়েছেন ৮ জন, এখনো নিখোঁজ ১৮ জন।
চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে এবার গ্রীষ্মজুড়ে চরম আবহাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্বাঞ্চলে দেখা দিয়েছে রেকর্ড তাপপ্রবাহ, দক্ষিণ-পশ্চিমে হয়েছে প্রবল বন্যা। এর আগে টাইফুন উইফার আঘাতে শানডং প্রদেশে ২ জনের মৃত্যু হয়, নিখোঁজ ১০ জন। একই মাসে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইয়ান শহরে ভূমিধসে নিহত হন ৩ জন।
চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৫৪.১১ বিলিয়ন ইউয়ান (৭.৫ বিলিয়ন ডলার)। এর মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষতি হয়েছে বন্যার কারণে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন চরম আবহাওয়া ও দুর্যোগ বাড়ছে, যা চীনের জনজীবন ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।






















