নেত্রকোনার মদনে নিখোঁজের দুই দিন পর মগড়া নদী থেকে লতিফ মিয়া (৫৫) নামে এক কৃষকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে করছে পুলিশ ও স্বজনরা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের দক্ষিণ বালালী এলাকায় মৃত গেদু মিয়ার বাড়ির পেছনে মগড়া নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত লতিফ মিয়া উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের মৃত লাবু হাজীর ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি লতিফ মিয়া। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। নিখোঁজের দুই দিন পর শনিবার বিকেলে মগড়া নদীতে তাঁর অর্ধগলিত লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরে তাঁর স্ত্রী হেভেনা আক্তার লাশটি শনাক্ত করেন। নিহতের কপালে ছিদ্রযুক্ত ক্ষতসহ শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
তিয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান বলেন, ‘নদীতে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে আমিও ঘটনাস্থলে যাই। নিহতের পকেটে একটি চাবি পাওয়া যায়। ওই চাবি দিয়ে পুলিশ তাঁর ঘরের দরজা খুলতে সক্ষম হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা লাশটি শনাক্ত করেন।’
নিহত লতিফ মিয়ার স্ত্রী হেভেনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’
মদন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়াসিম কুমার তালুকদার বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে লাশ শনাক্ত করেন। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 



















