১০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

  • নাঈম আহমেদ
  • পোষ্টের সময় : ১০:০৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • ২২ ভিউ :

 

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে।

 

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম।

 

এর আগে দূতাবাস চত্বরে প্রবাসী বাংলাদেশি ও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রধান অতিথি ইসমাইল জবিউল্লাহ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

 

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ইসমাইল জবিউল্লাহ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক সংকটময় পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতি রক্ষার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরবর্তী সময়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি রচিত হয়।

 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে কাজ করছে। জাতীয় স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ, মানবিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন জাতীয় অঙ্গীকার।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের উন্নয়নেও এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। তিনি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদার গর্বিত প্রতিনিধি। তাঁদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ৭ নভেম্বর শুধু একটি ঐতিহাসিক দিন নয়, এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের এক অনন্য প্রতীক। এই দিনের শিক্ষা হচ্ছে, জাতীয় সংকট মোকাবিলায় জনগণের ঐক্য ও দেশপ্রেমের কোনো বিকল্প নেই। তিনি সকলকে দেশপ্রেম, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নের অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানিয়ে বলেন,আমাদের পরিচয় একটাই—আমরা বাংলাদেশি।আমাদের স্বার্থ একটাই—বাংলাদেশের স্বার্থ।আমাদের অঙ্গীকার একটাই—সবার আগে বাংলাদেশ।

 

সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং দেশের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেন।

 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ব্যানারে নেই জিয়াউর রহমানের ছবি, এমপির নিন্দা

বকশীগঞ্জে বিএনপি নেতা মজিদ সরকারের মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া ও আলোচনা সভা 

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

পোষ্টের সময় : ১০:০৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

 

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে।

 

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম।

 

এর আগে দূতাবাস চত্বরে প্রবাসী বাংলাদেশি ও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রধান অতিথি ইসমাইল জবিউল্লাহ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

 

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ইসমাইল জবিউল্লাহ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক সংকটময় পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতি রক্ষার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরবর্তী সময়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি রচিত হয়।

 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে কাজ করছে। জাতীয় স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ, মানবিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন জাতীয় অঙ্গীকার।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের উন্নয়নেও এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। তিনি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদার গর্বিত প্রতিনিধি। তাঁদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ৭ নভেম্বর শুধু একটি ঐতিহাসিক দিন নয়, এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের এক অনন্য প্রতীক। এই দিনের শিক্ষা হচ্ছে, জাতীয় সংকট মোকাবিলায় জনগণের ঐক্য ও দেশপ্রেমের কোনো বিকল্প নেই। তিনি সকলকে দেশপ্রেম, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নের অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানিয়ে বলেন,আমাদের পরিচয় একটাই—আমরা বাংলাদেশি।আমাদের স্বার্থ একটাই—বাংলাদেশের স্বার্থ।আমাদের অঙ্গীকার একটাই—সবার আগে বাংলাদেশ।

 

সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং দেশের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেন।

 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Share this news as a Photo Card