কারো বয়স ৫ বছর। কারো ৬, কারো বা ১০ বছর। এরা সবাই পাঠচুকাতে ব্যস্ত প্রাথমিকে স্তরে। নার্সারি থেকে পঞ্চম পর্যন্ত এদের অধ্যবসায়। গায়ে গাঢ় ঘেওয়া রঙের শার্ট। নেভী রঙের ফুল বা হাফ প্যান্ট। গলায় খেয়েরি কালারের টাই। পূর্ণিমার ঝলমলে রাতে যেমন আকাশভরা রাশি রাশি তারা জ্বলে থাকে। তেমনি ওরা। ওদের চোখে মুখে যেন আগামীর স্বপ্ন। দেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়। নিত্য ওরা আসে পাঠ চুকাতে, একদিন ওরা বের হবে দেশের কল্যাণে। বলছিলাম টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার তারার মেলা কিন্ডারগার্টেনের কথা। পাঠশালাটি উপজেলা ক্যাম্পাসেই অবস্থিত। একপাশে পরিষদের কার্যালয়। দক্ষিণ পাশে হেলথ সেন্টার। পূর্ব দিকে পাকা সড়ক। পশ্চিমে নিচু অংশ। চারপাশে ইট পাথর আর গাছপালায় আচ্ছাদিত। সকাল থেকে কোলাহল মুখর হয়ে উঠে পাঠশালার ক্যাম্পাস। নার্সারি থেকে পঞ্চম পর্যন্ত চলে পড়াশোনা।
আজ ১৮ জুন বৃহস্পতিবার ছিল ওদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা। এ মেলা উদ্ভাবক, দর্শক সবাই খুদে। যাদের বয়স ৪-১০ বছর। ওদের বিজ্ঞান মনস্ক ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিচালনা কমিটি এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করে।
তারা মেলার আয়োজন প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের সভাপতি মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন বলেন, এত খুদে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান মনস্ক ও প্রযুক্তির প্রতি তাদের আগ্রহ এবং জানা শেখার প্রতি তাদের স্পৃহা বাড়াতে এ আয়োজন।
তিনি বলেন, খুদেদের আয়োজন ছিল অসাধারণ। এত ছোট শিশুদের স্টলগুলো ছিল চমৎকার। তাদের তৈরি বিভিন্ন উপকরণের বর্ণনা ছিল মুগ্ধ করার মতো।
যেখান হাইস্কুল বা কলেজ লেভেলে হয় এমন আয়োজন। সেখানে ছোট শিশুদের জন্য এ আয়োজন যে কাউকে আকর্ষণ করবে। আগামী দিনগুলোতে যেন এ ধারা অব্যাহত থাকে।
বিদ্যালয় আঙিনায় কয়েকটি স্টলে শিশু তৈরি বিভিন্ন বিজ্ঞান ভিত্তিক খুদের আবিষ্কার সাজিয়ে রাখে। দর্শক ছিল খুদেরাই। প্রধান অতিথি হিসেবে মেলা পরিদর্শন করেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন।
খুদে শিক্ষার্থীরা জানান, এ মেলায় তাদের অনেক জানা ও শেখার সুযোগ হয়েছে। অনেক বিষয়ের সাথে সরাসরি জানার সুযোগ হয়েছে।
এমন আয়োজনে অভিভাবকরা খুশি। অভিভাবকরাও এ মেলায়। শিশুদের জন্য বিজ্ঞান মেলা খুব উৎসাহের। বড় হয়ে ওদের আগ্রহ বাড়বে। বেশি জানতে পারবে। এমনটাই জানালেন অভিভাবকরা।

হাবিবুর রহমান, মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি 



















