১০:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে উচ্চফলনশীল জাতের বিনাসরিষা-৯ ও বিনাসরিষা-১১’র মাঠ দিবস

ময়মনসিংহে বিনা উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল বিনাসরিষা-৯ ও বিনাসরিষা-১১’র মাঠ দিবসে কর্মকর্তারা। ছবি- ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস।

বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ‘বিনা’ উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতের বিনাসরিষা-৯ ও বিনাসরিষা -১১ এর চাষাবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ময়মনসিংহের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার চর জেলখানা এলাকায় ‘বিনা’র গবেষণা কার্যক্রম শীক্তশালী করণ প্রকল্পের অর্থায়নে এই মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহবুবুল আলম তরফদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপপ্রকল্প পরিচালক ড. মো. আশিকুর রহমান, বিনা’র ফলিত গবেষণা ও সম্প্রসারণ বিভাগের প্রধান ড. মো. ইব্রাহিম খািলল, উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জুলকার নাইন, উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ড. ফাহমিনা ইয়াসমিন, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামীমা বেগম ও ফার্ম ম্যানেজার মো. সাইদুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, বিনাসরিষা-৯ ও বিনাসরিষা -১১ উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা। এই ফলন অন্য সরিষার জাতের উৎপাদনের চেয়ে অনেক বেশি হয়। এতে বিঘা প্রতি প্রায় ছয় মণ ফলন পাওয়া যায়। আনুপাতিক হারে এই জাতে তেল উদপাদনের পরিমাণও অনেক বেশি হয়। এ জাতের সরিষার ফলন স্বল্প মেয়াদি হওয়ায় আমন মৌসুমে ধান কাটা পর বোরো চাষর আগে যখন জমি পতিত থাকে সেই সময়ের মধ্যে এই জাতের সরিষা আবাদ করে ঘরে তোলা যায়। এই শস্যবিন্যাসের মাধ্যমে কৃষকরা দুই ফসলি জমিতে তিনটি ফসল উৎপন্ন করে অতিরিক্ত লাভবান হতে পারবে। শুধু তাই নয়, এই জাতের সরিষার উৎপাদন বাড়লে দেশে তেলের অভাব যেমন দূর হবে তেমনি আমদানী নিভরতা কমিয়ে দেশে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।

চর জেলাখানা এলাকার কৃষক আসমাঊল হোসনা এ মৌসুমে তার ৪০ কাটা জমিতে এই বিনাসরিষা-১১ জাত আবাদ করেছে। তিনি বলেন, এই প্রথম এই জাতের সরিষা চাষ করেছি। এতে দেখা যাচ্ছে এর ফলন অনেক ভালো হযেছে এবং মাত্র ৭৫ দিনের মধ্যে এই সরিষা কেটে ঘরে তুলে আবারও বোরো আবাদ করতে পারবো। এতে আমি লাভবান হচ্ছি। আমার এই সরিষার আবাদ দেখে গ্রামের অন্যান্য কৃষক ভায়েরাও উৎসাহিত হয়েছে।

আগামীতে তারাও এই জাতের সরিষার চাষ করবে বলে আমার কাছে পরামর্শ চেয়েছে। তিনি বলেন, পাশের গ্রামের রফিকুল ইসরামের কাছ থেকে তিনি এই বিনাসরিষার খবর পেয়ে এবার তিনি নিজেই এই বিনাসরিষা-১১ এর বীজ সংগ্রহ করে চাষ করেছেন বলে জানান। বিনা’র গকেষণা কর্মকর্তারা আগামীতে এ এলাকায় আরও বেশি জমিতে বিনাসরিষা-৯ ও বিনাসরিষা-১১ চাষ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী মৌসুমে এই বিনাসরিষার জাতের চাষ করলে তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবেন। এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রায় শতাধিক কৃষক-র্কষাণী উপস্থিত ছিলেন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

বাকৃবি ছাত্রদলের উদ্যোগে সার্বক্ষণিক দুটি অ্যাম্বুলেন্স চালু, স্বস্তিতে শিক্ষার্থীরা

নান্দাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু

26 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ময়মনসিংহে উচ্চফলনশীল জাতের বিনাসরিষা-৯ ও বিনাসরিষা-১১’র মাঠ দিবস

পোষ্টের সময় : ০৪:১৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ‘বিনা’ উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতের বিনাসরিষা-৯ ও বিনাসরিষা -১১ এর চাষাবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ময়মনসিংহের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার চর জেলখানা এলাকায় ‘বিনা’র গবেষণা কার্যক্রম শীক্তশালী করণ প্রকল্পের অর্থায়নে এই মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহবুবুল আলম তরফদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপপ্রকল্প পরিচালক ড. মো. আশিকুর রহমান, বিনা’র ফলিত গবেষণা ও সম্প্রসারণ বিভাগের প্রধান ড. মো. ইব্রাহিম খািলল, উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জুলকার নাইন, উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ড. ফাহমিনা ইয়াসমিন, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামীমা বেগম ও ফার্ম ম্যানেজার মো. সাইদুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, বিনাসরিষা-৯ ও বিনাসরিষা -১১ উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা। এই ফলন অন্য সরিষার জাতের উৎপাদনের চেয়ে অনেক বেশি হয়। এতে বিঘা প্রতি প্রায় ছয় মণ ফলন পাওয়া যায়। আনুপাতিক হারে এই জাতে তেল উদপাদনের পরিমাণও অনেক বেশি হয়। এ জাতের সরিষার ফলন স্বল্প মেয়াদি হওয়ায় আমন মৌসুমে ধান কাটা পর বোরো চাষর আগে যখন জমি পতিত থাকে সেই সময়ের মধ্যে এই জাতের সরিষা আবাদ করে ঘরে তোলা যায়। এই শস্যবিন্যাসের মাধ্যমে কৃষকরা দুই ফসলি জমিতে তিনটি ফসল উৎপন্ন করে অতিরিক্ত লাভবান হতে পারবে। শুধু তাই নয়, এই জাতের সরিষার উৎপাদন বাড়লে দেশে তেলের অভাব যেমন দূর হবে তেমনি আমদানী নিভরতা কমিয়ে দেশে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।

চর জেলাখানা এলাকার কৃষক আসমাঊল হোসনা এ মৌসুমে তার ৪০ কাটা জমিতে এই বিনাসরিষা-১১ জাত আবাদ করেছে। তিনি বলেন, এই প্রথম এই জাতের সরিষা চাষ করেছি। এতে দেখা যাচ্ছে এর ফলন অনেক ভালো হযেছে এবং মাত্র ৭৫ দিনের মধ্যে এই সরিষা কেটে ঘরে তুলে আবারও বোরো আবাদ করতে পারবো। এতে আমি লাভবান হচ্ছি। আমার এই সরিষার আবাদ দেখে গ্রামের অন্যান্য কৃষক ভায়েরাও উৎসাহিত হয়েছে।

আগামীতে তারাও এই জাতের সরিষার চাষ করবে বলে আমার কাছে পরামর্শ চেয়েছে। তিনি বলেন, পাশের গ্রামের রফিকুল ইসরামের কাছ থেকে তিনি এই বিনাসরিষার খবর পেয়ে এবার তিনি নিজেই এই বিনাসরিষা-১১ এর বীজ সংগ্রহ করে চাষ করেছেন বলে জানান। বিনা’র গকেষণা কর্মকর্তারা আগামীতে এ এলাকায় আরও বেশি জমিতে বিনাসরিষা-৯ ও বিনাসরিষা-১১ চাষ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী মৌসুমে এই বিনাসরিষার জাতের চাষ করলে তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবেন। এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রায় শতাধিক কৃষক-র্কষাণী উপস্থিত ছিলেন।

 

Share this news as a Photo Card